ঢাকা শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬

দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে আমখোলা খাল

তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ২৪, ২০২৬, ০৭:১৮ এএম

বরগুনার তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের আমখোলা খাল দখল, দূষণ ও ভরাটের কারণে অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ খালটির স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে তলিয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি ও ধানের বীজতলা, ব্যাহত হচ্ছে কৃষিকাজ। বছরের পর বছর লোকসান গুনতে গুনতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজারো কৃষক। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীদের অবৈধ দখল, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, অবাধে মাছ শিকার এবং প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে খালটি আজ প্রায় মৃত জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। দ্রুত খালটি দখলমুক্ত করে পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের কবিরাজপাড়া এলাকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত আমখোলা খালটির বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দিয়ে পানি আটকে মাছ ধরা হচ্ছে। কোথাও কোথাও খালের দুই তীর দখল করে স্থাপনা ও চাষাবাদ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় পলি জমে খালের গভীরতা কমে গেছে। এর সঙ্গে কচুরিপানা ও আগাছার বিস্তারে পানির প্রবাহ আরও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে না পেরে আশপাশের কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় আমখোলা খাল ছিল এলাকার কৃষির প্রাণ। এই খালের পানি ব্যবহার করে সেচ দেওয়া হতো এবং বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি সহজেই নদীতে নেমে যেত। বর্তমানে খালটি কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলায় কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ধানের বীজতলা, সবজিখেত ও অন্যান্য ফসলের জমি প্রায়ই পানিতে তলিয়ে নষ্ট হচ্ছে। এতে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও কাক্সিক্ষত ফলন মিলছে না।

স্থানীয় কৃষক খেনচি মং, ফরিদ হাওলাদার, চিনতেন রাখাইন, রাজিব হাওলাদারসহ একাধিক কৃষক জানান, একসময় এই খাল তাদের কৃষিকাজের প্রধান অবলম্বন ছিল। এখন বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার, পলি জমে ভরাট এবং কচুরিপানার কারণে খালটি প্রায় অচল হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই জমিতে পানি জমে ধানের বীজতলা ও অন্যান্য ফসল নষ্ট হচ্ছে। বছরের পর বছর ক্ষতির মুখে পড়ে অনেক কৃষক চরম আর্থিক সংকটে রয়েছেন। তারা আরও অভিযোগ করেন, খালটি দখলমুক্ত করার দাবি জানালে প্রভাবশালী মহলের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হয়। অনেক সময় অপপ্রচার চালানো হয়, এমনকি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। তাই প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপে খালটি দ্রুত দখলমুক্ত ও পুনঃখননের দাবি জানান তারা।

স্থানীয়দের মতে, আমখোলা খাল পুনরুদ্ধার করা গেলে শুধু জলাবদ্ধতাই দূর হবে না, কৃষি উৎপাদনও বাড়বে। পাশাপাশি এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই খাল।

এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমখোলা খালের দখল ও ভরাটের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে খালটি উদ্ধার করা হবে। পাশাপাশি স্বাভাবিক পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ স্থানীয় কৃষকদের আশা, প্রশাসনের ঘোষিত উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে এবং কৃষি উৎপাদনে আবারও ফিরে আসবে স্বাভাবিক গতি।