ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

বাঁশের সাঁকোয় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০৩:১৭ এএম

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন অন্তত ১০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে স্কুল-কলেজ, হাট-বাজার ও কর্মস্থলে যাতায়াত করছেন স্থানীয়রা। বর্ষা মৌসুমে সাঁকোটি পানিতে তলিয়ে গেলে তখন নৌকাই হয়ে ওঠে একমাত্র ভরসা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাদিপুর ইউনিয়নের গোলনগর ও সনমান্দী ইউনিয়নের কুমারচর গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে ব্রহ্মপুত্র নদ। পঞ্চমীঘাট বাজার সংলগ্ন এ নদে কোনো সেতু না থাকায় কুমারচর, জোয়ারদী, দৌলরদী, ফতেপুর, গাংকুলকান্দি, দড়িকান্দি, সাজালেরকান্দীসহ আশপাশের অন্তত ১০ গ্রামের মানুষ বাঁশের তৈরি অস্থায়ী সাঁকো ব্যবহার করে নদী পারাপার করেন। প্রতি বছর খরা মৌসুমে এলাকাবাসীর উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হলেও বর্ষা এলেই সেটি পানিতে তলিয়ে যায়। তখন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, অসুস্থ রোগী ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার হতে হয়। কুমারচর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হক বলেন, বাজারের মালামাল ও কৃষিপণ্য পরিবহনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

ফসলের বোঝা নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হওয়া খুবই কষ্টকর। গত ৫০ বছরে এ সাঁকো পার হতে গিয়ে শত শত মানুষ আহত হয়েছেন, কেউ কেউ পঙ্গুত্বও বরণ করেছেন। দৌলরদী গ্রামের বাসিন্দা সোহেল আরমান বলেন, কুমারচর-গোলনগর সেতুর দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন ও আবেদন করা হচ্ছে। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বাস মিললেও এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী জনি জানায়, প্রতিদিন সাইকেল কাঁধে করে সাঁকো পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। খুব ভয় লাগে। একটি সেতু হলে আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের কষ্ট অনেকটাই কমে যাবে। সরকারি তোলারাম কলেজের শিক্ষার্থী তামান্না আক্তার বলেন, বর্ষাকালে নৌকাডুবিতে সুমাইয়া নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছিল। এমন দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।

এতে প্রায় ২০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ দূর হবে। এ বিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদন হলে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।