রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ১৫ নম্বর যোগীপাড়া ইউনিয়নের কাতিলা গ্রামের নাগা বাজার-মৌলভীভিটা সড়কের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় ৩ হাজার মানুষ। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির উন্নয়নকাজ শুরু হলেও ৮ মাসেও মূল কাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
কাতিলা গ্রামটি ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলা ‘খ’ আকৃতির বড় এই গ্রামের উত্তরাংশ ‘নিচু কাতিলা’ নামে পরিচিত। এ এলাকার মানুষের চলাচলের অন্যতম মাধ্যম নাগা বাজার-মৌলভীভিটা সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নবঞ্চিত ছিল।
গ্রামটিতে রয়েছে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুটি মাদ্রাসা, দুটি ঈদগাহ মাঠ, দুটি হিন্দু মন্দির, একটি উচ্চ বিদ্যালয় ও একটি কলেজ। প্রতিদিন শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। পাশাপাশি নওগাঁ ও নাটোর জেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় সড়কটির অর্থনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, রাজশাহী জেলার শেষ প্রান্তে হওয়ায় বছরের পর বছর ধরে সড়কটি অবহেলিত রয়েছে। মানুষের দুর্ভোগ কমাতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নাগা বাজার, কিনুরমোড় থেকে মৌলভীভিটার ওপর দিয়ে নিচু কাতিলার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত প্রায় ১ দশমিক ২ কিলোমিটার সড়ক পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শুরুর প্রায় ৮ মাস পার হলেও সড়কের মূল পাকাকরণের কোনো অগ্রগতি নেই। কয়েকটি স্থানে পুকুরের পাশে সীমিত আকারে ইটের গাঁথুনি করা হলেও ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো সংস্কারের আওতায় আনা হয়নি। এতে বর্ষায় সড়ক ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কর্দমাক্ত হয়ে হাঁটুসমান কাদায় পরিণত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত, রোগীদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া এবং কৃষিপণ্য বাজারজাত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
কাতিলা গ্রামের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর সমাধান মিলছে না। বরাদ্দ হওয়ার পরও কেন কাজ বন্ধ রয়েছেÑ তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা কোরবান আলী বলেন, ‘কাজের নামে কয়েকটি স্থানে সীমিত আকারে ইটের গাঁথুনি করা হয়েছে। কিন্তু যেসব জায়গা বেশি ঝুঁঁকিপূর্ণ, সেগুলো সংস্কার করা হয়নি। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে দ্রুত কাজ শেষ করা প্রয়োজন।’ তিনি আরও বলেন, ‘এলাকার শিক্ষার্থী, রোগী ও কৃষকদের দুর্ভোগ কমাতে জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।’
এ বিষয়ে যোগীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এফ মাজেদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, ‘এই খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় কাজ বন্ধ রয়েছে। নতুন অর্থবছর শুরু হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত আবারও সড়কের কাজ শুরু করা হবে।’

