ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

নদীভাঙনে ভিটামাটিহীন শত পরিবার

কলিট তালুকদার, পাবনা
প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০৩:৪৫ এএম

পাবনার বেড়া উপজেলার যমুনা নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় অব্যাহত নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে শত শত পরিবার। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র (সাবস্টেশন), মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

সম্প্রতি বেড়া উপজেলার পুরান ভারেঙ্গা ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রামসহ যমুনাতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদীর ভয়াল ভাঙনে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের ভাষায়, ‘নদীর এ কূল ভাঙে, ও কূল গড়ে’Ñ কিন্তু যমুনার অব্যাহত ভাঙনে বারবার সর্বস্ব হারিয়ে অনিশ্চিত জীবনই যেন তাদের নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, পুরান ভারেঙ্গা ইউনিয়নের বক্তারপুর, বোড়ামারা, চরসিংহাসন, কল্যাণপুরসহ কয়েকটি নদীতীরবর্তী গ্রামের শত শত বিঘা ফসলি জমি গত কয়েক বছরে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অনেক পরিবার হারিয়েছে বসতভিটা। বর্ষা মৌসুমে প্রতিবছর নদীভাঙনের আতঙ্ক থাকলেও এবার ভাঙনের তীব্রতা আগের তুলনায় বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ইতিমধ্যে অনেক পরিবার নিরাপদ স্থানে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়েছে। তবে যারা এখনো নদীতীরে বসবাস করছেন, তারা প্রতিনিয়ত ভাঙনের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

কল্যাণপুর চরের কৃষক তাইজুল ইসলাম জানান, গত এক মাসেই যমুনার ভাঙনে তার তিন বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এর আগেও তিনি কয়েক বিঘা জমি হারিয়েছেন। বর্তমানে চাষাবাদের মতো জমি না থাকায় পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন তিনি।

তাইজুল ইসলামের মতো একই দুর্ভোগে পড়েছেন বক্তারপুর এলাকার আরও অনেক কৃষক। বছরের পর বছর নদীভাঙনে জমিজমা হারিয়ে অনেকেই প্রায় ভূমিহীন হয়ে পড়েছেন। কৃষিকাজ ছিল তাদের প্রধান জীবিকার উৎস। কিন্তু একের পর এক জমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় তারা এখন আর্থিক সংকট ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীতীর রক্ষায় দ্রুত জিওব্যাগ, কংক্রিট ব্লক কিংবা স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে আরও বহু পরিবার ভিটামাটি হারানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও হুমকির মুখে পড়বে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়া পওর বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হায়দার আলী জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা সম্প্রতি ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে আরও বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়বে এবং সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। জনদুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।