× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

উচ্চপ্রু মারমা, রাজস্থলী

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫, ০৭:১৩ এএম

দুই সেতুতেও কমেনি দুর্ভোগ

উচ্চপ্রু মারমা, রাজস্থলী

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫, ০৭:১৩ এএম

দুই সেতুতেও কমেনি দুর্ভোগ

রাঙামাটির বিলাইছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ডরমিটরি পর্যন্ত সংযোগ সড়কের সেতুটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে ওই স্থানে পাকা সেতুর পাশে কাঠের আরেকটি সেতু নির্মাণ করা হলেও সমস্যা কমার বদলে যেন আরও বেড়েছে। বর্ষা মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়লে পাকা সেতুটি সম্পূর্ণ ডুবে যায়, এর সঙ্গে সেতুটির সংযোগ সড়কও খালে বিলীন হয়ে গেছে।

আর কাঠের সেতুটি খারাপ আবহওয়া ও অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থায়ী সেতুর অভাবে প্রতি বছর কাঠের সেতুটি মেরামতে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার মতো খরচ হয়। ফলে সরকারের বিপুল অর্থ অপচয় হলেও ঝুঁকি নিয়েই চলতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় বিদ্যালয় থেকে ডরমিটরি পর্যন্ত প্রায় ৬০ মিটার দীর্ঘ কাঠের সেতুটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেতুর কাঠের পাটাতন অনেকগুলো ভেঙে পড়েছে, কিছু স্থানে খুঁটি ও বিম পুরোপুরি নড়বড়ে হয়ে গেছে। আবার সেতুর একদিকে বিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস, অন্যদিকে বিদ্যালয়ের ডরমেটরি ও কেন্টিন থাকায় প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এই সেতু দিয়ে পারাপার হচ্ছে, ফলে যেকোনো মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

স্থানীয় বাসিন্দা আলী হায়দার জানান, প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এই সেতু দিয়ে চলাচল করে। সেতুটি গত ঈদুল আজহার পর সর্বশেষ মেরামত করা হলেও এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের সময় করা পাকা সেতুটি সঠিক উচ্চতা বিবেচনা না করেই তৈরি করা হয়। এ কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়লেই সেতুসহ সংযোগ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যায়। বছরের কয়েক মাস সেতুটি ব্যবহারের উপযোগী থাকে না। এরপর বিকল্প হিসেবে কাঠের সেতু তৈরি করা হলেও তা বিভিন্ন কারণে এক বছরের বেশি টেকে না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ওমর ফারুক বলেন, কাঠের সেতু হওয়ায় প্রতি বছরই মেরামত করতে হয়। ফলে সরকারের কয়েক লাখ টাকা অপচয় হচ্ছে। শুরু থেকেই পরিকল্পনায় ভুল থাকায় একই জায়গায় দুটি সেতু করেও প্রকৃত সমস্যার সমাধান হয়নি। ফলে জনগণের দুর্ভোগও কমেনি। এখন ওই স্থানে একটি স্থায়ী পাকা সেতু প্রয়োজন।

বিলাইছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম জানান, এই সেতু বিলাইছড়ির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেতু। প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ শিক্ষার্থী এটি ব্যবহার করে। সেতুর উত্তর পাশের কাঠের খ- ও খুঁটিগুলো ভেঙে যাচ্ছে। যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। যদি সেতুটি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে ১০ মিনিটের পথ শিক্ষার্থীদের দুই মাইল ঘুরে আসতে হবে। এ কারণে শিক্ষার্থী ও জনগণের সুবিধার জন্য ওই স্থানে স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, বারবার মেরামত নয়, স্থায়ী ও আধুনিক পাকা সেতুই পারে শিক্ষার্থীসহ হাজার মানুষের যাতায়াত নিরাপদ করতে। এখন প্রয়োজন দ্রুত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন।

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি দেওয়ান বলেন, উপজেলার স্বল্প বরাদ্দ দিয়ে স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা সম্ভব নয়; এতে বছরের অর্ধেক বরাদ্দ খরচ হয়ে যাবে। ওই স্থানে সেতুটি নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। তাই জেলা পরিষদ বা উন্নয়ন বোর্ডের সুদৃষ্টি প্রয়োজন।

উপজেলা প্রকৌশলী আলতাফ হোসেন জানান, ‘প্রতিদিন ওই স্থান দিয়ে হাজারো মানুষ চলাচল করায় বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। কাপ্তাই লেকের কথা মাথায় রেখে ওই স্থানে প্রায় ৬০ মিটার দৈর্ঘ্যর একটি সেতু প্রয়োজন। সেতুটি প্রজেক্টে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে।  দ্রুত কার্যক্রম এগিয়ে নিতে আমাদের চেষ্টা চলছে।’

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!