মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষাব্যবস্থায় চরম অনিয়মের প্রতিবাদে উত্তাল পুরো ভারত। দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জের ঘটনার পর এবার শিক্ষার্থীদের সমর্থনে এগিয়ে এলেন ভারতের ক্রীড়াঙ্গনের দুই মহাতারকাÑ টেনিস কুইন সানিয়া মির্জা এবং ক্রিকেট ঈশ্বর শচীন টেন্ডুলকার। ভারতের তরুণ সমাজকে দেশের আসল শক্তি উল্লেখ করে শিক্ষাব্যবস্থায় অবিলম্বে স্বচ্ছতা, সংস্কার এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় দ্রুত হিংসামুক্ত ও সৌহার্দপূর্ণ সমাধানের তাগিদ দিয়েছেন এই দুই আইকন।
ছয়বারের গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন বার্তায় শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছেন। নিটের মতো কঠিন পরীক্ষার জন্য তরুণদের বছরের পর বছর পরিশ্রম এবং বর্তমান অনিশ্চয়তায় গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক উদ্বেগের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছি। বছরের পর বছর প্রস্তুতি নেওয়ার পর তাদের এই হতাশা দেখে আমার হৃদয় ব্যথিত।’ সানিয়া স্পষ্ট করে জানান, তরুণদের ক্ষোভ ও হতাশার মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার আনা এখন সময়ের দাবি। তবে যেকোনো ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তিনি আহ্বান জানান, যেন আলোচনার মাধ্যমে এমন সমাধান খোঁজা হয়, যা ভারতের তরুণদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করে।
অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় মুখ খুলেছেন মাস্টারব্লাস্টার শচীন টেন্ডুলকারও। সরাসরি রাজনীতির ভেতরে না গিয়ে নিজের অধ্যাপক বাবার দেওয়া শিক্ষণীয় স্মৃতি মনে করিয়ে শচীন এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘আমার বাবা বলতেন, ‘ব্যর্থ হওয়া দোষের নয়, কিন্তু প্রতারণা করা ঠিক নয়। কখনো শর্টকাটের পথ বেছে নেবে না।’ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ এই রানসংগ্রাহক ক্ষোভপ্রকাশ করে জানান, কঠোর পরিশ্রম করার পরও যখন শিক্ষার্থীরা সঠিক মূল্যায়ন পায় না, তখন তারা ব্যবস্থার ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলে। সমাজে ফল লাভের চেয়ে সৎ পরিশ্রমকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে অভিভাবক, শিক্ষক, প্রশাসন থেকে শুরু করে পুরো সমাজকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শচীন। তরুণদের মেধা, সততা এবং কঠোর পরিশ্রমের সঠিক মূল্যায়নে একজোট হয়ে একটি শক্তিশালী সমাধান খুঁজে পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। মেধার ওপর আঘাত হানা প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের এই মহা-আন্দোলনে দুই ক্রীড়া কিংবদন্তির এমন সরাসরি অবস্থান ভারতের তরুণ সমাজকে নতুন শক্তি জোগাচ্ছে।

