ঢাকা শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬

ম্যাচ ফিক্সিং ও বেটিং তদন্তের মুখে স্পেন

মাঠে ময়দানে ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২৬, ০৭:১৫ এএম

দীর্ঘ ১৬ বছর পর স্বপ্নের ট্রফি হাতে তুলে বিশ্ব ফুটবলের সিংহাসনে বসেছে স্পেন। মেগা ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে লা রোখাদের সেই বিশ্বজয়ের আমেজ ও জয়োল্লাস এখনো কাটেনি, তার মধ্যেই স্প্যানিশ ফুটবলে নেমে এসেছে ঘোর কৃষ্ণ মেঘ। ২০২৪ ইউরোর পর ২০২৬ বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়া স্পেনের দুটি ম্যাচ জড়িয়ে পড়েছে সন্দেহজনক বেটিং বিতর্কে, ফলে এবার সরাসরি তদন্তের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতে পারে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের!

বিখ্যাত ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক খেলাধুলার নিরপেক্ষ নজরদারি সংস্থা ‘গ্রুপ অব কোপেনহেগেন’ সদ্যসমাপ্ত বিশ্বকাপের সাতটি ম্যাচকে সন্দেহজনক বেটিংয়ের তালিকায় চিহ্নিত করে ফিফার কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেছে। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, সেই তালিকায় রয়েছে চ্যাম্পিয়ন স্পেনের দুটি ম্যাচ! টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করেছিল স্পেন, যা নিয়ে ‘পলি-মার্কেট’ বেটিং প্ল্যাটফর্মে অস্বাভাবিক বাজি ধরা হয়েছিলÑ যেখানে দাবি করা হয় শক্তিশালী স্পেন নাকি এই ছোট দেশকে হারাতেই পারবে না! এ ছাড়া স্পেনের আরেকটি ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে ফেররান তোরেসের গোল বাতিলে ভিএআরের দীর্ঘ বিলম্বকেও অত্যন্ত সন্দেহের চোখে দেখছে সংস্থাটি।

গ্রুপ অব কোপেনহেগেন স্পেনের এই ম্যাচগুলোকে ‘ইয়েলো অ্যালার্ট’ বা তৃতীয় স্তরের সতর্কতার আওতায় রেখেছে। অস্বাভাবিক বেটিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্যের সন্দেহজনক আদান-প্রদান কিংবা গুজবের ওপর ভিত্তি করে এই অ্যালার্ট দেওয়া হয়ে থাকে। তবে অ্যাথলেটিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খেলাধুলা ও বেটিং বিশেষজ্ঞ ক্রিশ্চিয়ান কালব কিছুটা আশার বাণী শুনিয়েছেন। তিনি জানান, সতর্কবার্তা জারি হওয়ার মানেই যে সরাসরি ফিক্সিং বা কারচুপি হয়েছে তা নয়; অনেক সময় সাধারণ অর্থনৈতিক তারল্য বা স্বাভাবিকের বাইরের কোটা পরিবর্তনের কারণেও ‘আউটলায়ার’ হিসেবে অ্যালার্ট দেখা দিতে পারে।

স্পেন ছাড়াও বিশ্বকাপের আরও কিছু ম্যাচ নিয়ে লাল কার্ড-কেন্দ্রিক চাঞ্চল্যকর বাজির প্রমাণ পেয়ে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছেÑ যার মধ্যে মেক্সিকোর বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড় থেম্বা জোয়ান এবং বেলজিয়াম ম্যাচের আগে বসনিয়া ম্যাচে অহেতুক লাল কার্ড দেখা যুক্তরাষ্ট্র স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের ঘটনা অন্যতম। এর আগে ফিফা কোনো ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না পাওয়ার কথা জানালেও, গ্রুপ অব কোপেনহেগেন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা এই সন্দেহজনক ম্যাচগুলোর পেছনের আসল সত্য বের করতে ফিফার কাছে আরও জোরালো ব্যাখ্যা চায়। ফলে বিশ্বজয়ের উল্লাসের আবহেই এখন ফিক্সিং আর বেটিংয়ের অনাকাক্সিক্ষত ছায়া ঘিরে ধরেছে স্প্যানিশ ফুটবলকে।