ঢাকা শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬

রাস্তা-ঘরবাড়িতে পানি জমে দুর্ভোগে টুঙ্গিপাড়ার ২০০ পরিবার

টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২৬, ০৮:০৪ এএম
ছবি: রূপালী বাংলাদেশ

একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তা, ঘরবাড়ি, রান্নাঘর ও কবরস্থান তলিয়ে যায়। সরকার আসে, সরকার যায়। চেয়ারম্যান-মেম্বার আসে, যায়। জনগণের কাছে সবাই প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু কাজের সময় কেউ কাজ করে না।

চলতি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার ভোগান্তির কথা এভাবেই বলছিলেন গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহিম শেখ। শুধু তিনিই নন, একই সুরে এমন কথা বলেছেন ওই গ্রামের আরও ১০ জন।

ইব্রাহিম আরও বলেন, বৃষ্টির সময় রাস্তা থেকে বালতিতে করে পানি অপসারণ করতে হয়। না হলে রাস্তা নাকি পুকুর, সেটাই বোঝা যায় না। গত বছর একই অবস্থা হলে ইউএনও স্যার এসে বলেছিলেন ড্রেন করে দেবেন। কিন্তু তিনি বদলি হয়ে যাওয়ায় ড্রেন আর হয়নি। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও হয়নি। তাই প্রতিবছরের এই দুর্ভোগ থেকে আমরা মুক্তি চাই।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যপাড়া গ্রামে ছয়টি বংশের পাঁচ শতাধিক পরিবারের বসবাস। এছাড়া এই গ্রামে ছয়টি কবরস্থান, চারটি মসজিদ, দুটি মাদ্রাসা ও চারটি গণশিক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। প্রায় ১০ বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে ছয়টি কবরস্থানসহ দুই শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি ও রান্নাঘর তলিয়ে যায়। স্থানীয়রা বিষয়টি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের কাছে মৌখিক ও লিখিতভাবে জানালেও জলাবদ্ধতার সমাধান হয়নি। এতে প্রতিবছর মুসল্লি, শিক্ষার্থীসহ ওই গ্রামের মানুষ ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েন। বর্ষার দিনগুলোতে কোনোরকমে খেয়ে-না-খেয়ে বর্ষাকাল পার করার অপেক্ষায় থাকেন তারা। কারণ পাটগাতী মধ্যপাড়া গ্রামের অধিকাংশ পরিবার চুলায় রান্না করে। আবার অনেকের গ্যাস কেনার সামর্থ্যও নেই।

পাটগাতী মধ্যপাড়া গ্রামের মুক্তার আলী বলেন, বৃষ্টির সময় কোনো মানুষ মারা গেলেও দাফনের পরিস্থিতি থাকে না। কবর খোঁড়াও সম্ভব হয় না। কয়েকদিন আগে সিরাজ নামের এক ব্যক্তি মারা গেলে তাকে দাফন করতেও ব্যাপক সমস্যা হয়েছে। এখনো তার কবরের মধ্যে পানি থইথই করছে। মোট কথা, মরে গিয়েও শান্তি নেই। তাই আমরা এ দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান চাই।

স্থানীয় মসজিদের ইমাম আব্দুর রহমান শেখ বলেন, কয়েকদিন বৃষ্টি হলেই মসজিদের সামনের রাস্তা তলিয়ে যায়। তখন রাস্তা খুঁজে পাওয়াও যায় না। এছাড়া বাড়িঘর, কবরস্থান—সবকিছুই তলিয়ে যায়। মসজিদের সামনের রাস্তায় নাপাক ও ময়লা পানি থাকায় মুসল্লিরা মসজিদে নামাজ পড়তে আসতে পারেন না। প্রতিবছর বর্ষার সময় এই সমস্যায় পড়তে হয়।

একই গ্রামের সিরাজুল ফকির, নাসির শিকদার, সৈয়দ আতিয়ার রহমান ও মজিবুর শেখ বলেন, আমাদের পাটগাতী মধ্যপাড়ায় বসবাসরত অধিকাংশ মানুষই চুলায় রান্না করেন। আবার অনেকের গ্যাস কেনার সামর্থ্য নেই। তাই অনেকে একবেলা কোনোরকমে খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন, আবার কেউ তিন বেলাই হোটেলে গিয়ে খাচ্ছেন। কারণ বৃষ্টির কারণে সবার বাড়ির উঠান ও রান্নাঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই আমরা খুব সমস্যায় রয়েছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলম বলেন, টুঙ্গিপাড়া যেহেতু নিচু এলাকা, তাই বৃষ্টি হলেই অনেক জায়গায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনে আমি প্যানেল চেয়ারম্যানকে জরুরি ভিত্তিতে পানি অপসারণের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছি। জনদুর্ভোগের বিষয়গুলো আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। সমস্যার কথা জানলেই দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আশা করি, দ্রুত পাটগাতী মধ্যপাড়া গ্রামের মানুষের কষ্ট দূর হবে।