রাজশাহীতে তিন দিনব্যাপী শিশুদের হৃদরোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা কার্যক্রমে প্রায় আড়াই হাজার শিশুকে সেবা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় হার্ট ফাউন্ডেশন, রাজশাহীর কার্যক্রমের প্রশংসা করে প্রতিষ্ঠানটির সেবার পরিধি সম্প্রসারণ ও অনুদান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। একই সঙ্গে তিনি দল-মত নির্বিশেষে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে রাজশাহীর উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাজশাহীতে তিন দিনব্যাপী শিশুদের হৃদরোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা কার্যক্রমের সমাপনী অনুষ্ঠান শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় হার্ট ফাউন্ডেশন, রাজশাহীর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রায় আড়াই হাজার শিশুকে হৃদরোগ পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, রাজশাহী সবার শহর। দল-মত নির্বিশেষে সম্মিলিত উদ্যোগ ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে নগরীর উন্নয়ন আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার নয়, সমন্বিত প্রচেষ্টাই টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় হার্ট ফাউন্ডেশন, রাজশাহী ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হচ্ছে। শিশুদের হৃদরোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা কার্যক্রমের মতো উদ্যোগ জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
হার্ট ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির জন্য সরকারি অনুদান বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি হাসপাতালের সেবার পরিধি সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, তিন দিনের এ কর্মসূচিতে প্রায় আড়াই হাজার শিশুর হৃদরোগ পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। মোট ২ হাজার ৬০০ জন শিশু নিবন্ধন করে এ কার্যক্রমে অংশ নেয়।
অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার আ.ন.ম.ড. বজলুর রশীদ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম এবং রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি হাসেন আলী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় হার্ট ফাউন্ডেশন, রাজশাহীর সভাপতি আব্দুল মান্নান। সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) অধ্যাপক মহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে চীনের চার সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল অংশ নেয়। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের শিশু হৃদরোগ বিভাগ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে।

