শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষকদের নিজেদের সন্তানকে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ানোর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা তৈরি করতে হবে। শিক্ষক নিজেই যদি নিজের সন্তানকে নিজের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি না করান, তাহলে অন্য অভিভাবকেরা কেন সেই প্রতিষ্ঠানে তাদের সন্তানকে ভর্তি করবেন— এ প্রশ্নেরও জবাব দিতে হবে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে কচুয়া উপজেলার মনোহরপুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত শিক্ষক সমাবেশ ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তিনি যখন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যাবেন, তখন শিক্ষকদের কাছে জানতে চাইবেন, ‘আপনার সন্তান কেন আপনার প্রতিষ্ঠানে পড়ে না?’ নিজের প্রতিষ্ঠানের প্রতি আগে শিক্ষকদেরই আস্থা তৈরি করতে হবে।
জেলা স্কুলগুলোর অতীত ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একসময় প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাও নিজেদের সন্তানকে সরকারি বিদ্যালয়ে পড়াতেন। সেই মান ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকার আনন্দময়, কারিগরি ও জীবনমুখী শিক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করছে। এ ধারাবাহিকতায় ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের হাতে ৩১ কোটি গুণগত ও মানসম্মত নতুন পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হবে।
নতুন পাঠ্যবই প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস তথ্যভিত্তিক ও যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হবে। ইতিহাস বিকৃতি, রাজনৈতিক প্রচারণা বা পক্ষপাতমূলক উপস্থাপনার কোনো সুযোগ থাকবে না। ইতিহাসকে ইতিহাসের মতোই তুলে ধরা হবে। পর্যায়ক্রমে নতুন শিক্ষাক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন বই সংযোজন করা হবে এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিতর্কচর্চা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, ধর্মীয় মূল্যবোধ, খেলাধুলা এবং বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দেশের প্রতিটি বিদ্যালয়ে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে বই সরবরাহ করা হবে।
খেলাধুলার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রতিটি উপজেলায় নিজস্ব ক্রীড়া দল গঠন করা হবে। জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজনের পাশাপাশি নতুন শিক্ষাক্রমে খেলাধুলা ও পারিবারিক মূল্যবোধ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে থাকারও আহ্বান জানান।
মনোহরপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সভাপতি আলহাজ খোরশেদ আলম মান্নানের সভাপতিত্বে এবং সাচার ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ নওশের আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আহসান পারভেজ, কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান রাসেল, সহকারী কমিশনার আবু নাছির, কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. খায়রুল আবেদীন স্বপন এবং সাধারণ সম্পাদক মাসুদ এলাহী সুভাষ।
এ সময় উপজেলার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার তিন সহস্রাধিক শিক্ষক সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক এবং সুধীজনও উপস্থিত ছিলেন।

