কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় শিক্ষা খাতের উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ এবং গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ ‘Pakundia Education Excellence Initiative’-এর উদ্বোধনী শিক্ষা সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই ২০২৬) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এ সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “একটি জাতির টেকসই উন্নয়নের মূল ভিত্তি হলো মানসম্মত শিক্ষা। বর্তমান প্রজন্মকে যুগোপযোগী, প্রযুক্তিনির্ভর ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক, প্রশাসন ও সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।” তিনি পাকুন্দিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাসও প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা উন্নয়ন বিষয়ক সংগঠন ‘আমরা করব জয়’-এর সভাপতি, বহুগ্রন্থ প্রণেতা ও বিশ্বভ্রমণিক ম. মাহফুজুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পাকুন্দিয়া উপজেলা অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার মো. শারফুল ইসলাম এবং পাকুন্দিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আফছার উদ্দিন আহমদ মানিক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কবি ও ছড়াকার সাদরুল উলা।
সেমিনারে প্রশিক্ষক হিসেবে অংশ নেন এডুকেশন আইটি স্পেশালিস্ট শফিক হাসান, ডাটা সায়েন্টিস্ট ফারহানা হক এবং বহুমাত্রিক লেখক ও ভাষা গবেষক হাসান রাউফুন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, গবেষণামনস্কতা, ভাষা দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং সুধীজনের উপস্থিতিতে উপজেলা পরিষদ হলরুম প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘Pakundia Education Excellence Initiative’-এর মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি, মেধাবীদের উৎসাহিত করা, শিক্ষকদের অনুপ্রাণিত করা এবং পাকুন্দিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, যুগোপযোগী ও কার্যকর করে তোলার জন্য একটি স্থায়ী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষা নিয়ে নতুন চিন্তাভাবনা, অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ, সৃজনশীল, নৈতিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ পাকুন্দিয়ার শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে।

