ভারতের জাতীয় দলের ক্রিকেটার অভিষেক শর্মা বিধ্বংসী ব্যাটিং করে রেকর্ড বুকে নাম তুলেছেন। ঘরোয়া টুর্নামেন্ট মুশতাক আলি ট্রফিতে মাত্র ১২ বলে হাফ সেঞ্চুরির পর এই ব্যাটসম্যান তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়েছেন স্রেফ ৩২ বলে। অভিষেক শেষ পর্যন্ত ৫২ বলে ১৪৮ রান করেছেন। গতকাল টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এই প্রতিযোগিতায় অভিষেক পাঞ্জাবের হয়ে নেমেছিলেন বেঙ্গলের বিপক্ষে। যেখানে প্রতিপক্ষ বোলিং আক্রমণে ছিলেন মোহাম্মদ শামি, আকাশ দীপ ও শাহবাজ নাদিমদের মতো বোলাররা। কোনো বোলারই অভিষেক-প্রভসিমরান সিংদের হাত থেকে রেহাই পাননি। ওপেনিং জুটিতে দুজন মিলে মাত্র ১২.৩ ওভারে ২০৫ রান তোলে। ৩৫ বলে ৮ চার ও ৪ ছক্কায় ৭০ রানে প্রভসিমরান ফিরলে ভাঙে সেই জুটি। ১৮তম ওভার পর্যন্ত খেলা অভিষেক ৫২ বলে ১৪৮ রানের ইনিংসটি সাজিয়েছেন ৮টি চার ও ১৬টি ছক্কায়, যা টি-টোয়েন্টি ইনিংসে তার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান। এর আগে তার সর্বোচ্চ রান ছিল ১৪১।
বিধ্বংসী ইনিংস খেলার পথে অভিষেক বেশ কয়েকটি রেকর্ডে নাম তুলেছেন। প্রথমে তিনি হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ১২ বলে। মাত্র দুজন ব্যাটসম্যানের চেয়ে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড আছে। ২০২৩ এশিয়ান গেমসে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে নেপালের দিপেন্দ্র সিং আইরে ৯ এবং একই বছর মুশতাক আলি ট্রফিতে রেলওয়ে দলের আশুতোষ শর্মা ১১ বলে ফিফটি করেন। টি-টোয়েন্টিতে সমান ১২ বলে হাফ সেঞ্চুরি করার রেকর্ড আছে পাঁচজনের, তালিকায় শেষ নামটি অভিষেকের। তার আগে একই কীর্তি গড়েন যুবরাজ সিং, ক্রিস গেইল, হজরতউল্লাহ জাজাই ও সাহিল চৌহান। এরপর অভিষেক ম্যাজিক ফিগার পূর্ণ করেন ৩২ বলে, যা টি-টোয়েন্টিতে যৌথভাবে ষষ্ঠ দ্রুততম সেঞ্চুরি। সবচেয়ে দ্রুততম ২৭ বলে সেঞ্চুরির বিশ^রেকর্ডটি সাহিল চৌহানের দখলে। দ্বিতীয় দ্রুততম ২৮ বলে সেঞ্চুরির রেকর্ড আছে অভিষেকের, একই বছর ২০২৪-এ সমান কীর্তি গড়েন উরভিল প্যাটেলও।
এ ছাড়া মোহাম্মদ ফাহাদ ২৯, ক্রিস গেইল ৩০, উরভিল প্যাটেল ৩১ এবং সমান ৩২ বলে সেঞ্চুরি করেছেন ঋষভ পান্ত, বৈভব সূর্যবংশী ও অভিষেক শর্মা। এ ছাড়া ভারতের হয়ে অভিষেকের চেয়ে টি-টোয়েন্টিতে বেশি রানের ইনিংস আছে স্রেফ একটি। গত বছর তিলক ভার্মা ৬৭ বলে ১৫১ রানের ইনিংসটি খেলেন। ১৪৮ রানে অভিষেক দুই এবং ১৪৭ রান নিয়ে তার পরই অবস্থান শ্রেয়াস আইয়ারের। এ ছাড়া ১৬ ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ডেও অভিষেক আছেন যৌথভাবে চতুর্থ স্থানে। টি-টোয়েন্টির এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ১৯টি ছক্কা মেরেছেন ফিন অ্যালেন। ক্রিস গেইল ও সাহিল চৌহান ১৮টি করে, গেইল ও পুনিত বিশত ১৭টি করে এবং সমান ১৬টি করে ছক্কা হাঁকান গ্রাহাম ন্যাপিয়ার, দাসুন শানাকা, হজরতউল্লাহ জাজাই, ফিন অ্যালেন, স্টিফেন দোহানি ও অভিষেক।
অভিষেকের বিধ্বংসী ইনিংসে পাঞ্জাব ২০ ওভার শেষে ৫ উইকেটে ৩১০ রান সংগ্রহ করে, যা টি-টোয়েন্টিতে চতুর্থ সর্বোচ্চ দলীয় রান। সর্বোচ্চ ৩৪৯ রান ভারতীয় দল বারোদা, জিম্বাবুয়ে ৩৪৪ এবং নেপালের ৩১৪ রান তোলার রেকর্ড আছে। পাঞ্জাবের লক্ষ্য তাড়ায় বেঙ্গল ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রান তুলতে সক্ষম হয়। তাদের পক্ষে অভিমন্যু ইশ্বরন ৬৬ বলে ১৩ চার ও ৮ ছক্কায় ১৩০ রান করেন।

