ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে বঞ্চিত প্রার্থীদের সমর্থকরা দ্বিতীয় দিনের মতো ব্যাপক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে আতঙ্কে-আগুনে অচল গফরগাঁও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও জনগণের জান-মাল রক্ষায় গুলি নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। একই সাথে বিকেলে গফরগাঁওয়ে জলকামান নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহ-১০ গফরগাঁও আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পান আক্তারুজ্জামান বাচ্চু। বিষয়টি জানাজানি হলে মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের কর্মী-সমর্থকরা আন্দোলন শুরু করেন।
ওই দিন বেলা ৩টা থেকে আন্দোলন শুরু হওয়ার পর রেললাইনসহ উপজেলা ও পৌর শহরের অন্তত ৩০টি পয়েন্টে আগুন দেয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। এতে পৌর শহরের মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীরা পৌর শহরসহ আশপাশ এলাকায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখে।
আন্দোলনে বিএনপির নেতাকর্মীরা স্টেশনের কম্পিউটার সিস্টেম, সিগনাল লাইট, স্টেশনে সংযোগ লাইনের বক্ষে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। স্লিপার তুলে নেওয়ায় সরে গেছে রেললাইন। এতে বিকেল ৩টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে, ওই দিন বিকালে গফরগাঁও-ভালুকা সড়ক, গফরগাঁও-কিশোরগঞ্জ সড়ক, নান্দাইল ও ত্রিশালমুখী সড়কে যানবাহন ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
দ্বিতীয় দিনের আন্দোলনে সকাল থেকে চারবার গফরগাঁওয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এতে অন্তত ১০টি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। জনগণের জান রক্ষায় গুলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে, রোববার বিকেল ৪টায় গফরগাঁওয়ে জলকামান নিয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে, আতঙ্কে-আগুনে দ্বিতীয় দিনের মতো গফরগাঁও পৌর শহর ও আশপাশের এলাকায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।
শনিবার বিকেল থেকে গফরগাঁও পৌর শহর ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আক্তারুজ্জামান বাচ্চুর মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করছেন সিদ্দিকুর রহমান ও মুশফিকুর রহমানের অনুসারীরা। দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্তির জন্য ছয় জন প্রার্থী মাঠে ছিলেন।
মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে শনিবার বিকেল থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে এবি সিদ্দিকুর রহমান ও মুশফিকু রহমানের সমর্থকরা। মিছিল চলাকালে অন্তত ৩০ স্থানে টায়ার ও কাঠের গুঁড়ি দিয়ে আগুন ধরিয়ে প্রতিবাদ জানায়। বিক্ষোভকারীরা জানান, মনোনয়ন পরিবর্তন না করা পর্যন্ত তারা লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দলীয় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, এবি সিদ্দিকুর রহমান ও মুশফিকুর রহমানের বাইরে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় ধানের শীষের ভরাডুবি হবে। বিক্ষোভকারীদের নিবৃত্ত করতে গফরগাঁও পৌর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎপরতা চালাচ্ছে।
দলীয় মনোনয়ন বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শাহ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীদের প্রাণের দাবি বর্ষীয়ান রাজনীতিবীদ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবি সিদ্দিকুর রহমানকে মনোনয়ন দেবেন। এ ছাড়াও জেলা বিএনপির সদস্য মুশফিকুর রহমান বিএনপির মনোনয়ন প্রাপ্তির জন্য অন্যতম দাবিদার। অন্যথায় দুর্বার প্রতিরোধ ও আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
পৌর বিএনপির সাবেক সদস্য শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দলের ভুল সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করছে। মুশফিকুর রহমানকে দলীয় মনোনয়ন প্রদানের বিষয়টি আবারও বিবেচনার জন্য দাবি জানাই।’
গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার হানিফ বলেন, স্টেশনের কম্পিউটার সিস্টেম, সিগনাল লাইট, স্টেশনে সংযোগ লাইনের বক্সে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। স্লিপার তুলে নেওয়ায় সরে গেছে রেললাইন। এতে বিকেল ৩টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ থাকে। আজ রোববার সকাল থেকে আন্দোলনকারীরা সকাল থেকে চারবার ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ অবরোধ করে আগুন দেয়। পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে বলে জানান তিনি।
গফরগাঁওয়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এন এম আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, অগ্নিসংযোগ, সড়ক ও রেলপথ অবরোধের কারণে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছি।
ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, জনগণের জান-মাল রক্ষায় গুলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি একটি জলকামান আনা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ বল প্রয়োগ করা হবে বলেও জানান তিনি।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন