আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে তিনটি আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
যাচাই-বাছাই শেষে তিনটি আসনে মোট ২৯ জন প্রার্থীর মধ্যে বিভিন্ন ত্রুটি, সম্পদ ও মামলার তথ্য গোপন এবং নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ না করায় ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), খেলাফত মজলিশ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্য থেকে মোট ১০ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এ সময় ১৯ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।
কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম): এই আসনে ৫ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন—অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান (বিএনপি), অ্যাডভোকেট রোকন রেজা (জামায়াতে ইসলামী), জয়নাল আবেদিন (ন্যাশনাল পিপলস পার্টি), নূরুল ইসলাম (ইনসানিয়াত বিপ্লব) এবং বিল্লাল আহমেদ মজুমদার (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ)।
বাতিল প্রার্থীরা হলেন—সঠিক ফরমে হলফনামা দাখিল না করায় খায়রুল ইসলাম ঠাকুর (খেলাফত মজলিশ), ১ শতাংশ ভোটার সমর্থকের মধ্যে পাঁচজনের তথ্য ভুল থাকায় কাজী রেহা কবির (স্বতন্ত্র) ও একই অভিযোগে আব্দুর রহিম মোল্লা (স্বতন্ত্র) এবং হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় শাহীন রেজা চৌধুরী (স্বতন্ত্র)।
কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর): এ আসনে ৬ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন—সৈয়দ এহসানুল হুদা (বিএনপি), দেলোয়ার হোসেন (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), সাজ্জাদ হোসেন (বাংলাদেশ মুসলিম লীগ), মাহাবুবুল আলম (জাতীয় পার্টি), ওয়ালী উল্লাহ (বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট) ও মো. রমজান আলী (জামায়াতে ইসলামী)।
বাতিল প্রার্থীরা হলেন—মামলার তথ্য গোপন করায় কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল (স্বতন্ত্র) এবং ১ শতাংশ ভোটারের মধ্যে ছয়জনের তথ্য সঠিক না থাকায় হাসনাত কাইয়ুম (স্বতন্ত্র)।
কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর): এ আসনে ৮ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন—শরীফুল আলম (বিএনপি), নাঈমুল হাসান (ইনসানিয়াত বাংলাদেশ), রুবেল হোসেন (বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট), আতাউল্লাহ আমীন (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ), মূসা খান (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), সাইফুল ইসলাম (খেলাফত মজলিশ), নূরুল কাদের সোহেল (জনতার দল) এবং সাফি উদ্দিন আহমেদ (গণফোরাম)।
বাতিল প্রার্থীরা হলেন—সম্পদ ও ঋণের তথ্য না দেওয়ায় নজরুল ইসলাম (এনপিপি), তথ্য অসম্পূর্ণ থাকায় হাবিল মিয়া (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি) ও আইয়ুব হোসেন (জাতীয় পার্টি) এবং ১ শতাংশ ভোটার সমর্থনের কম থাকায় শরিফুল হক জয় (স্বতন্ত্র)।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে শনিবার তিনটি আসনের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। এ তিনটি আসনে ২৯ জন প্রার্থীর মধ্যে বিভিন্ন ত্রুটি ও মামলার তথ্য গোপনের কারণে ১০ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
এ সময় পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাহিদ হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমতসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মনোনয়ন যাচাই-বাছাই উপলক্ষে সকাল থেকেই বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থকেরা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে ভিড় করেন। আগামীকাল রোববার কিশোরগঞ্জ-১, ২ ও ৩ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।




সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন