রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলজুড়ে জেঁকে বসেছে শীত। তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। হাড় কাঁপানো শীত ও ঠান্ডাজনিত রোগে গত দুই সপ্তাহে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ৯ শিশুসহ ১৬ জন মারা গেছে। বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।
সারা দিনেও দেখা মিলছে না সূর্যের। ঘন কুয়াশায় দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। খেটে খাওয়া দিনমজুর, শ্রমিক ও ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।
হাসপাতালের শিশু ও মেডিসিন ওয়ার্ডগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝেতে ও বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হিমেল বাতাস ও সূর্যের দেখা না মেলায় ঠান্ডাজনিত রোগ নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, কোল্ড ডায়রিয়া ও হৃদরোগের প্রকোপ বাড়ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যমতে, কয়েক দিন ধরে রংপুরে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে ওঠানামা করছে। ডিসেম্বরের শেষদিকে এই অঞ্চলে মৌসুমের প্রথম শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়। মাঝখানে দু-তিন দিন বন্ধ থাকার পর গত দুদিন থেকে আবার শুরু হয়েছে হিমেল হাওয়াসহ ঘন কুয়াশা।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, এবার শীতের প্রকোপ বাড়ার সময় থেকে এই পর্যন্ত গত দুই সপ্তাহে চিকিৎসাধীন ১৬ রোগী মারা গেছেন। যার মধ্যে সাতজন বয়স্ক ও ৯ শিশু। তবে কনফার্ম হয়ে বলা যাবে না যে, তারা শীতের জন্যই মারা গেছে। সাধারণত যে রোগগুলোতে মারা গেছে, সেগুলো শীতকালে বাড়ে। যেমন—হাঁপানি বা অ্যাজমা, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস।
পরিচালক আরও বলেন, শীতকালীন রোগে আক্রান্ত রোগীর চাপ বেড়েছে। হাসপাতালের আউটডোর-ইনডোরে যে রোগী ভর্তি হচ্ছেন, তাদের অধিকাংশই শীতকালীন রোগে আক্রান্ত।
তীব্র শীতে, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। তাই এই সময়ে শিশুদের গরম কাপড় পরিয়ে রাখা, কুসুম গরম পানি পান করানো ও খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেন আশিকুর রহমান।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় রংপুরে ১১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৮.৬, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১০.৫, দিনাজপুরে ৯, ঠাকুরগাঁওয়ে ৯.৫, লালমনিরহাটে ১০.৫ এবং গাইবান্ধায় ৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।



