× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৮, ২০২৬, ০৫:৪৬ এএম

হাসতে হাসতে হাসপাতালে গিয়েছিল মোস্তফা, ফিরল লাশ হয়ে

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৮, ২০২৬, ০৫:৪৬ এএম

শিশু মোহাম্মদ মোস্তফা। ছবি : সংগৃহীত

শিশু মোহাম্মদ মোস্তফা। ছবি : সংগৃহীত

শনিবার সকালে হাসিখুশি ছিল মোহাম্মদ মোস্তফা। নতুন জামা পরানো হয়েছিল। মা বারবার বলছিলেন, ‘একটু কষ্ট হবে, তারপর ঠিক হয়ে যাবে।’ খতনার মতো ছোট একটি চিকিৎসা, পরিবারের কেউই ভাবেনি, সেটিই হয়ে উঠবে সাত বছরের মোস্তফার জীবনের শেষ অধ্যায়।

চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে খতনা করাতে গিয়ে মোস্তফার মৃত্যু হয়েছে। পুরো ঘটনাটি এখন তার পরিবারের কাছে দুঃস্বপ্নের মতো। সকালে যে শিশুটি খেলতে খেলতে হাসপাতালে ঢুকেছিল, রাত নামতেই তার নিথর দেহ নিয়ে ফিরতে হয়েছে স্বজনদের।

মোস্তফা চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পূর্ব গোমদণ্ডী গ্রামের আবু মুসার ছেলে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে নগরের বহদ্দারহাট এক কিলোমিটার এলাকার ‘সেইফ হেলথ কেয়ার’ নামের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তখন সে পুরোপুরি সুস্থ ছিল।

ভর্তির পর মোস্তফার হাতে স্যালাইন দেওয়া হয়। কয়েক ঘণ্টা পর খিদে লাগার কথা জানায় সে। কিন্তু চিকিৎসকদের নির্দেশে খাবার দেওয়া হয়নি। বিকেল তিনটার দিকে তাকে অস্ত্রোপচার কক্ষে নেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা বাইরে অপেক্ষা করতে থাকেন। সময় গড়াতে থাকে, কিন্তু ভেতর থেকে কোনো স্বস্তির খবর আসে না।

সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ জানানো হয়, শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। দ্রুত তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে হবে। পরিবারের কেউ তখনো বুঝে উঠতে পারেননি, ভেতরে কী ঘটেছে।

রাতে চমেক হাসপাতালে নেওয়ার সময় শিশুটির শরীর ছিল বরফের মতো ঠান্ডা—এমনটাই দাবি করেছেন তার বাবা আবু মুসা। আইসিইউতে ভর্তি করার কিছুক্ষণ পর রাত ১০টার দিকে জানানো হয়, মোস্তফা আর নেই।

এই খবর শুনে পরিবারের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। আবু মুসা বলেন, তার ছেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ জুনাইদ চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিল। তার পরামর্শেই বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। খতনার মতো ছোট একটি অস্ত্রোপচারে এভাবে আমার ছেলেটা চলে যাবে, এটা কখনো কল্পনাও করিনি।

শিশুটির পরিবার ধারণা করছে, এনেসথেসিয়ার অতিরিক্ত মাত্রা প্রয়োগের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘হার্ট অ্যাটাক’ লেখা হয়েছে, যা পরিবারকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

এই ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন আবু মুসা। তিনি বলেন, আমি বিচার চাই। আমার সন্তানের মতো আর কোনো শিশু যেন এভাবে না মারা যায়।

শিশুটির মৃত্যুর বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!