নোয়াখালীর চাটখিলে জুলাই আন্দোলনের বিতর্কিত শহীদ ইমতিয়াজ হোসেনের (২২) মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ইমতিয়াজ হোসেন উপজেলার হাটপুকুরিয়া-ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের পশ্চিম গোবিন্দপুর গ্রামের ওয়ালী ব্যাপারী বাড়ির হাবিবুর রহমানের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিন বিকেলে চাটখিল থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র বহন করতে গিয়ে আত্মঘাতী গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন ইমতিয়াজ হোসেন। প্রথমে তাকে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ইমতিয়াজের বাবা ও সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান তার ছেলের নাম জুলাই আন্দোলনের শহীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতারা প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরে নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কাছে ইমতিয়াজের নাম ভুয়া শহীদ তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন করেন। এর পরপরই সরকারের বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা বিষয়টি তদন্ত শুরু করে।
এদিকে, ইমতিয়াজের মৃত্যুর প্রায় এক বছর পর তার বাবা হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে নোয়াখালী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাবেক এমপি এইচ এম ইব্রাহিমসহ ৫৭ জন জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭০-৮০ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সরকারিভাবে সারা দেশে জুলাই আন্দোলনের বিতর্কিত শহীদদের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে চাটখিলেও ইমতিয়াজের মরদেহ উত্তোলন করা হয়।
এ বিষয়ে ইমতিয়াজের বাবা হাবিবুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

-20260108022900.webp)

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন