নিজ সন্তানের হাত থেকে জীবন বাঁচাতে আজ অসহায় এক বৃদ্ধ দম্পতি। মাদকাসক্ত ছেলে শওকত আলীর অব্যাহত নির্যাতন, অপরাধ প্রবণতা ও প্রকাশ্য হত্যার হুমকিতে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের জাহাজপুরা গ্রামের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব কুতুব উদ্দিন ও তার স্ত্রী।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, শওকত আলী দীর্ঘদিন ধরে মাদকে আসক্ত। ইতোমধ্যে সে দুটি বিয়ে করলেও তার জীবনযাত্রায় কোনো পরিবর্তন আসেনি।
বরং মাদক সেবনের অর্থ জোগাড় করতে এলাকায় গাছের সুপারি চুরি, বিভিন্ন বাড়িঘর থেকে মোবাইল ফোন চুরি ও ছিনতাইসহ একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে সে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এসব ঘটনায় শওকত আলী বহুবার ধরা পড়েছে এবং স্থানীয়দের হাতে নাজেহালও হয়েছে। বিভিন্ন সময় আটক হওয়ার পর বৃদ্ধ বাবা-মা জরিমানা ও দেনদরবার করে তাকে ছাড়িয়ে এনে সন্তানের জীবন রক্ষা করেছেন। কিন্তু সেই সন্তানই এখন তাদের জীবনের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে।
বৃদ্ধ বাবা কুতুব উদ্দিন কাঁপা কণ্ঠে বলেন, যে ছেলেকে জন্ম দিয়েছি, বড় করেছি, তার অপরাধ ঢাকতে ঢাকতে সর্বস্ব শেষ করেছি। এখন সেই ছেলেই মাদক খেয়ে আমাদের মারধর করে, প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। রাতে ঘুমাতে পারি না, যেকোনো সময় সে আমাদের হত্যা করতে পারে।
তার মা বলেন, মায়ের বুকের সন্তান হয়েও সে আমাদের মানুষ মনে করে না। এই বয়সে এসে ছেলের হাতেই মরার ভয় নিয়ে দিন কাটছে। আমরা আর পারছি না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শওকত আলীর লাগামহীন আচরণ শুধু পরিবার নয়, পুরো এলাকাতেই আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে।
মানবিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে বৃদ্ধ বাবা-মা এখন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রয়োজনে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো এবং সর্বোপরি তাদের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
এই অসহায় দম্পতির একটাই আকুতি- ‘আমাদের বাঁচান, যেন নিজের সন্তানের হাতে আমাদের জীবন না যায়’।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন