× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ১০:০৩ পিএম

বিনামূল্যের সরকারি স্যালাইন কিনতে হচ্ছে বাইরের ফার্মেসি থেকে

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ১০:০৩ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত এক রোগীর চিকিৎসা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য নির্ধারিত সিপ্রোসিন স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ হাসপাতাল থেকে না পেয়ে রোগীর জন্য বরাদ্দ ওই সরকারি ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য হয়েছেন এক অসহায় ভ্যানচালক।

জানা গেছে, ভূঞাপুর উপজেলার পলশিয়া গ্রামের ভ্যানচালক আব্দুল জলিল (৫৫) তার অসুস্থ স্ত্রী আম্বিয়া বেগমকে (৫০) ডায়রিয়াজনিত কারণে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে সিপ্রোসিন স্যালাইন দেওয়ার কথা থাকলেও তা না পেয়ে বাইরের একটি ফার্মেসি থেকে সরকারি ওই স্যালাইন কিনতে হয় তাকে। একই সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক ওষুধও বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য হন তিনি।

অসুস্থ স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে বাকি ওষুধ কেনার টাকা জোগাড় করতে আবার ভ্যান নিয়ে রাস্তায় নামতে হয় জলিলকে, যা মানবিক দিক থেকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, সিপ্রোসিন স্যালাইনের গায়ে স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে—‘সরকারি ওষুধ, বাহিরে বিক্রয় নিষিদ্ধ।’ তবুও কীভাবে এসব স্যালাইন হাসপাতালের বাইরে ফার্মেসিতে বিক্রি হচ্ছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

আম্বিয়া বেগমের সেবা করতে সঙ্গে আসা এক স্বজন জানান, এখন পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ পাওয়া যায়নি। ওষুধ কেনার টাকা না থাকায় এই শীতের মধ্যে আম্বিয়া বেগমের স্বামী আব্দুল জলিল ভ্যান নিয়ে বের হয়েছেন। তিনি ফিরে এলে বাকি ওষুধ কিনতে হবে।

নিয়মিত বিছানার চাদর পরিবর্তন করা হয় না, দেওয়া হয় না ময়লা ফেলার ঝুড়ি। সেবিকাদের ডাকতে গেলে তারা রেগে কথা বলেন এবং ক্যানোলা করতে গিয়ে রক্ত বের হলে তা মুছতে কাগজ ব্যবহার করেন—এমন অভিযোগ করেন হাসপাতালে ভর্তি থাকা একাধিক রোগী ও তাদের স্বজনরা।

এ ঘটনায় সরকারি হাসপাতালের ওষুধ সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সচেতন মহলের দাবি, বিনামূল্যের ওষুধ যদি বাইরে বিক্রি হয়ে থাকে, তবে এর দায় কার—এই প্রশ্নের জবাব জরুরি।

এদিকে ঘাটাইল উপজেলার বকশিয়া গ্রাম থেকে ছয় দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগীর স্বজন জানান, সব ওষুধই বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। প্রচণ্ড ঠান্ডায় হাসপাতাল থেকে প্রত্যেক রোগীর জন্য একটি করে কম্বল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বাড়ি থেকে বিছানার চাদর ও কম্বল আনতে হয়েছে। রোগীর শরীরে স্যালাইন বা ওষুধ পুশ করানোর জন্য ক্যানোলা পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে পাওয়া যায়নি। ক্যানোলা ও মাসকিন টেপ বাইরে ফার্মেসি থেকে কিনতে হয়েছে।

সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ তুলে ধরায় ভর্তি রোগীদের সঙ্গে দায়িত্বে থাকা সেবিকারা (নার্স) খারাপ আচরণ করেন বলেও অভিযোগ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. লুৎফর রহমান আজাদ বলেন, সরকারি ওষুধ যদি বাইরের কোনো ফার্মেসি বা ক্লিনিকে পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের সহযোগিতায় যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!