× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৩, ২০২৬, ০৪:১২ পিএম

কাপাসিয়ায় জঙ্গলে হিরণের ঝুলন্ত মরদেহ ঘিরে রহস্য

কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৩, ২০২৬, ০৪:১২ পিএম

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার টোক ইউনিয়নের চেওরাইট গ্রামের খদোরটেক এলাকায় এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—এই প্রশ্নে ধোঁয়াশা কাটেনি, বরং পরিবারের অভিযোগ ও ঘটনাস্থলের আলামত রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে।

নিহত যুবকের নাম হিরণ (৩০)। তিনি কাপাসিয়া উপজেলার বড়দিয়া গ্রামের বাসিন্দা হারেছ আলীর ছেলে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে স্থানীয়রা একটি নির্জন জঙ্গলের ভেতরে গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় মরদেহটি ঝুলতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে কাপাসিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল সম্পন্ন করে।

পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করলেও নিহতের পরিবার সেই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি আত্মহত্যা নয়—বরং একটি পরিকল্পিত হত্যা, যার পর হত্যাকারীরা ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করেছে।

নিহতের পিতা হারেছ আলী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘আমার ছেলেকে হত্যা করে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এই কাজ করেছে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তারা আগেও আমাদের পরিবারকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। এটা কোনোভাবেই আত্মহত্যা হতে পারে না।’

তিনি আরও জানান, হিরণ দুই সন্তানের জনক। একজন মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে, অন্যজন এখনো অপ্রাপ্তবয়স্ক। এমন অবস্থায় হিরণের আত্মহত্যার কোনো যুক্তিসংগত কারণ দেখছে না পরিবারটি।

স্থানীয়দের ভাষ্য পরিবারের অভিযোগকে জোরালো করছে। তারা জানান, হিরণ ছিলেন অত্যন্ত দরিদ্র ও নিরীহ প্রকৃতির মানুষ। জীবিকার তাগিদে তিনি একটি ডিমের গাড়িতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। আত্মহত্যা করার মতো কোনো আচরণ বা মানসিক অস্থিরতা তার মধ্যে কেউ দেখেনি বলে দাবি করেন তারা।

একাধিক স্থানীয় সূত্র জানায়, হিরণের সঙ্গে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধ থেকেই এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকেই। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘সে আত্মহত্যা করার মানুষ ছিল না। নির্জন জঙ্গলের ভেতরে লাশ পাওয়ার বিষয়টি খুবই সন্দেহজনক।’

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত হত্যা না আত্মহত্যা—এই বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য এবং নিহত পরিবারের সরাসরি অভিযোগ, এই দুইয়ের মাঝে স্পষ্ট ফাঁক রয়ে গেছে। ফলে হিরণের মৃত্যু এখন আর একটি সাধারণ ঘটনা নয়; বরং এটি একটি সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না তা নিরপেক্ষ, গভীর ও পেশাদার তদন্ত ছাড়া উদঘাটন সম্ভব নয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!