ঢাকা থেকে নেত্রকোনাগামী আন্তঃনগর মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে অমানবিক আচরণের শিকার হয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে যাওয়া হকার শরিফ মারা যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও গুজবের বিপরীতে সে এখনও জীবিত আছে এবং চিকিৎসাধীন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, চলন্ত ট্রেনের দরজার বাইরে হ্যান্ডেল ধরে পাদানিতে ঝুলে আছেন হকার শরিফ। মাথায় ছিল কোমল পানীয় ভর্তি একটি গামলা। সে সময় ট্রেনের ভেতর থেকে দায়িত্বরত রেলওয়ে স্টাফদের তাকে মালপত্র ফেলে দেওয়ার কথা বলতে শোনা যায়। প্রাণ বাঁচাতে বারবার আকুতি জানালেও দরজা খুলে ভেতরে ঢোকার সুযোগ পায়নি সে।
একপর্যায়ে ট্রেনের গতির মুখে ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে যায় শরিফ। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই ধরে নেয় সে মারা গেছে। তবে বুধবার দুপুরে নিজেই গণমাধ্যমে কথা বলে শরিফ জানান, তিনি বেঁচে আছেন।
হকার শরিফ বলেন, আমি তো মরেই যেতাম। সবাই ফেসবুকে লিখেছে আমি মারা গেছি, কিন্তু আল্লাহর রহমতে বেঁচে আছি। মাথায় ১২–১৩টা সেলাই পড়েছে। পড়ে যাওয়ার সময় শুধু আল্লাহকে ডাকছিলাম।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে শ্রীপুর স্টেশন পার হয়ে ভাংগা ব্রিজ এলাকায় ট্রেনটির গতি কিছুটা কমে গেলে শরিফ মাথায় পানির বোতলভর্তি গামলা নিয়ে ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করে। তবে যে দরজায় তিনি উঠেছিল সেটি লক থাকায় ভেতরে ঢুকতে পারেনি।
ট্রেনটির স্টুয়ার্ড সুপারভাইজার আশরাফুল ইসলাম দাবি করেন, দরজার চাবি অন্য কর্মকর্তার কাছে থাকায় তা খুলতে কিছুটা সময় লাগছিল। এর মধ্যেই শরিফ পড়ে যায়। যদিও প্রত্যক্ষ ভিডিওতে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা চলছে।
হকার শরিফের বাবা হান্নান মিয়া হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। কাজের সুবাদে শরিফ কয়েক বছর ধরে গফরগাঁও এলাকায় বসবাস করছেন।
ময়মনসিংহ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানান, আহত শরিফ বর্তমানে গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশনের পাশেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে, তবে পুরোপুরি সুস্থ হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে।
এ ঘটনায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা ও অমানবিক আচরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নেটিজেনরা। অনেকেরই প্রশ্ন—দরজা খুলে দিলে বা ট্রেনের গতি কমালে কি এই দুর্ঘটনা এড়ানো যেত না?

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন