সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিয়ে রোগীর স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল থেকে হাসপাতালটিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
এর আগে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের চারতলার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। এ সময় রোগীর স্বজনরা ভাঙচুর চালায় এবং এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসককে হেনস্তা করার অভিযোগ ওঠে।
পুলিশ জানায়, আটক তিনজনই সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। তারা হলেন—ছাতক থানার খৈতর গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে শিমুল আহমদ (৩৫), তার স্ত্রী নাজিরা সিদ্দিকা (৩২) এবং দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা জাবেদ মিয়া (৩০)।
হামলার খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় নারীসহ তিনজনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন আহত হন। আহত এক নারী ও এক পুরুষকে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপর একজনকে কোতোয়ালি থানায় রাখা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর শুক্রবার রাতেই এক বিবৃতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানান, একজন নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও উদ্বেগজনক। তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে ইন্টার্ন ও জুনিয়র চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ ঘটনার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলবে।
সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি মাইনুল জাকির জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পরপরই নারীসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন