তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ‘‘আপনারা যদি পরিবর্তনের পক্ষে থাকেন, সংস্কারের পক্ষে থাকেন এবং সত্যিকার অর্থে জবাবদিহিমূলক প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব চান, তাহলে অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ ভোটে সিল দিতে হবে।’’
রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নীলফামারী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত গণভোটের প্রচার, ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “দেশের মালিকানা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই গণভোট। আসন্ন গণভোট জাতির ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং দেশের টেকসই পরিবর্তন নিশ্চিত করতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সূচক ভোট দেওয়া প্রতিটি সচেতন নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। যদি সত্যিই সংস্কার চান, তাহলে আমাদের উত্তর হবে ‘হ্যাঁ’।”
গুমের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা একটি গুম কমিশন গঠন করেছি, যেখানে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৯০০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে—এমন ১ হাজার ৯০০ জন নাগরিক নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের কোনো খোঁজ নেই। কেউ কেউ আর কখনো ফিরে আসেননি, কেউ কেউ ফিরে এসেছেন, আবার কারও পরিবারের সদস্যরা মরদেহ পেয়েছেন। রাষ্ট্রীয় বাহিনী ব্যবহার করে জনগণকে গুম ও খুন করা হয়েছে শুধু একটি কারণে—মানুষের ভোটাধিকার হরণ করার জন্য।’
আওয়ামী লীগ আমলের ভোট ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতার প্রতি তাদের এতটাই আসক্তি ছিল যে দেশের মানুষ ভোট দেবে—এই ধারণাটাই তারা মেনে নিতে পারেনি। ভোট দেওয়ার প্রয়োজন নেই—আমি ক্ষমতায় ছিলাম, আছি এবং থাকব—এমন মনোভাব থেকেই জনগণের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করা হয়েছে। সব রাজনৈতিক দলকে এমনভাবে চাপে রাখা হয়েছে, যাতে কেউ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগই না পায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৬ বছরে প্রশাসন এমনভাবে পরিচালিত হয়েছে, যেখানে নিরপেক্ষতার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী—সবখানেই ক্ষমতাসীনদের লোক বসানো হয়েছিল, যাতে রাতের ভোট নিয়েও কেউ প্রশ্ন তুলতে না পারে। এ কারণেই সংস্কার প্রয়োজন। এই অপশাসনের বিরুদ্ধে মুক্তি চাইলে আমাদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে গোলাপি কাগজে হ্যাঁ ভোট দিতে হবে।’
ভোট নিয়ে তৈরি হওয়া শঙ্কার বিষয়ে রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘ভোট হবে না—এমন একটি ভয় ছড়ানো হচ্ছে। কিন্তু ভোট না হওয়ার কোনো কারণ নেই। সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ। ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ, ২২ জানুয়ারি থেকে প্রচারণা শুরু হবে। যত বাধাই আসুক, ভোট হবে। সরকার সব বাধা মোকাবেলায় প্রস্তুত।’
ভোট বন্ধে হাইকোর্টে করা রিট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টে রিট হওয়া যেকোনো নির্বাচনের ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক ঘটনা। এতে নির্বাচন বন্ধ হয়ে যাবে, এমন কোনো কারণ নেই।’
নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের স্থানীয় সরকারের পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. আবু জাফর। এছাড়া বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম, নীলফামারী সেনাবাহিনী ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার মেজর মাহমুদ শরীফ, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. লুৎফুল কবির সরকার এবং নীলফামারী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আলিফ সিদ্দিক প্রান্তর।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন