× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

বগুড়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২১, ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম

বিএনপির ঘাঁটিতে জামায়াতের চোখ

বগুড়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২১, ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম

বিএনপি ও জামায়াতের লোগো।

বিএনপি ও জামায়াতের লোগো।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বগুড়ার সাতটি আসনে ৩৪ জন প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক পেয়েছেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন অফিসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতীক পেয়ে নির্বাচনি লড়াই শুরু করেছেন প্রার্থীরা। দলীয় প্রার্থীরা তাদের দলের প্রতীক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নিজেদের পছন্দের প্রতীক নিয়ে মাঠে নামছেন।

সবচেয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বগুড়া-৬ (সদর)। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ধানের শীষ প্রতীকে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, এটি বগুড়ার রাজনীতিতে ‘নজিরবিহীন’ ঘটনা। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে তার পক্ষে প্রতীক গ্রহণ করেন দলীয় নেতারা। তৃণমূল বিএনপি একে শুধু নির্বাচন নয়, রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি ‘অধ্যায়’ বলে মনে করছে। প্রতীক পাওয়ার পর তারা আভাস দিয়েছে—‘এবারের লক্ষ্য শুধু জয় নয়, রেকর্ড ব্যবধানে জয়।’

বগুড়া-২-এ জটিলতা, সমীকরণে বিএনপি বনাম নাগরিক ঐক্য

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে জমে উঠেছে বহুস্তরীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বিএনপি নেতারা প্রথমে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাকে সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন—পরে নিজস্ব প্রার্থী ঘোষণা করলে তৈরি হয় জটিলতা। শেষ পর্যন্ত নাটকীয়তার সমাপ্তি ঘটে দুই প্রতীকেই।

মাহমুদুর রহমান মান্না কেটলি প্রতীকে এবং মীর শাহে আলম ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে একই বিরোধী শিবিরের দুই নেতা ভোটের মাঠে মুখোমুখি, যা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বগুড়া বিএনপির ঐতিহ্যগত ঘাঁটি, এবার চ্যালেঞ্জ জামায়াতের

১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত বগুড়া ছিল বিএনপির প্রায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দুর্গ। দলটি খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলে ভোটের সমীকরণে একক আধিপত্য বজায় রেখেছিল। তবে এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় মাঠ উপস্থিতি ও কৌশলগত প্রার্থী বাছাই পুরোনো সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের মত।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বগুড়ার বেশিরভাগ আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন বিএনপি বনাম জামায়াত—এটি বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ শক্তিরও মাপঝোক।

মাঠের রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ

প্রতীক চূড়ান্তের পর ২১ জানুয়ারি থেকেই মাঠ গরম। পোস্টার, লিফলেট, মিছিল, টার্গেটভিত্তিক প্রচার—সবকিছুই শুরু হয়েছে বগুড়ায়। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত প্রতিটি শাখায় গতিশীলতা চোখে পড়ছে।

সংখ্যা বলছে বগুড়ায় ভোটযুদ্ধ ব্যাপক

এবার বগুড়ার সাত আসনে মোট ভোটার ২৯,৮১,৯৪০ জন। ভোটারের ঘনত্বের দিক থেকে বগুড়া উত্তরাঞ্চলের অন্যতম ভারী জেলা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বগুড়া-২ ও ৬ জাতীয় রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে। বগুড়া-৩, ৪, ৫ ও ৭ আসনে সাংগঠনিক লড়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ ভোটার এবার বড় ভ্যারিয়েবল।

গণতন্ত্র, প্রতীক ও মানসিক উত্তেজনা

নির্বাচনি সংস্কৃতির বহরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতীকের ভূমিকা শুধু পরিচয় নয়, একটি আবেগিক সম্পর্ক। ধানের শীষ, কেটলি, জামায়াতের নির্দিষ্ট প্রতীক, স্বতন্ত্রদের নানা প্রতীক—মিলে এলাকার চায়ের দোকান থেকে শহরের টকশো পর্যন্ত সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্র এখন প্রতীক ও সমীকরণ।

প্রতীক পাওয়া মানে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি যুদ্ধ শুরু। বগুড়ায় সেটির সঙ্গে যোগ হয়েছে ঐতিহাসিক পটভূমি, নতুন জোট রাজনীতি, পুরোনো দখল, নেতাকর্মীর আবেগ এবং তৃণমূলের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি। সামনে প্রচারণা আরও জমবে। আর তৃণমূল বলছে, বগুড়ার হাওয়া এবারও জাতীয় রাজনীতিকে বার্তা দেবে।

Link copied!