বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমাদের অবস্থান দুর্নীতির বিরুদ্ধে। আমরা ১১টি দল একত্র হয়েছি দুর্নীতিকে লাল কার্ড দেখানোর জন্য। দুর্নীতি তোমাকে লাল কার্ড। আমরা চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে। চাঁদা নিতে লজ্জা করে না?’
তিনি আরও বলেন, ‘তোমরা বরং রাস্তার পাশে ভিক্ষা করো, কিন্তু কারো কাছে চাঁদা চেয়ো না। ভিক্ষা করা হারাম নয়, চাঁদা চাওয়া হারাম। হারাম ছেড়ে দাও। আমরা তোমাদের হাতে সম্মানের কাজ তুলে দিতে চাই। সে দিন আমরা মিলেমিশে সোনার বাংলাদেশ গড়ব ইনশাআল্লাহ। অনৈক্য নয়, বিভক্তি নয়—ঐক্যবদ্ধ সমৃদ্ধির বাংলাদেশ।’
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের উজির আলী হাইস্কুল মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। এতে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের জেলা আমির অধ্যাপক আলী আজম মো. আবু বকর।
জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন: কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মোবারক হোসাইন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল শিবগাতুল্লাহ শিবগা, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, ১১ দল মনোনীত প্রার্থীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
মা-বোনদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘মা-বোনদেরকে কথা দিচ্ছি, ২৪-এর আন্দোলনে আপনারা জীবন বাজি রেখে ঢাকা সহ সারা দেশে আপনাদের সন্তানদের সাথে রাস্তায় নেমে লড়াই করেছেন। আমরা আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ। এমন বাংলাদেশ আমরা আপনাদের জন্য গড়ে তুলতে চাই, যেখানে আপনাদের গৃহে, যাতায়াত ব্যবস্থায়, চলাচলে ও কর্মস্থলে ইনশাআল্লাহ শতভাগ নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। কোনো জালিম আপনাদের দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস পাবে না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করতে বদ্ধপরিকর। তারা সমাজ থেকে অন্যায়, অবিচার, দুর্নীতি ও বৈষম্য দূর করার জন্য রাস্তায় নেমে বলেছিল—উই ওয়ান্ট জাস্টিস। আমরা এই জাস্টিস কায়েম করব ইনশাআল্লাহ। তাতে গরম ভাতে বিলাই বেজার হলেও কিছু করার নেই। আমরা এগিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ মুক্তির মঞ্জিলের দিকে।’
জামায়াতের আমির আরও বলেন, ‘যুবক বন্ধুদের বলতে চাই, তোমাদের আমরা বেকার ভাতা দেব না। বেকার ভাতা দিয়ে তোমাদের অপমানিত করতে চাই না। আমাদের যুবকেরা তাদের দক্ষতা ও যোগ্যতার স্বীকৃতি চায়। তারা হাতে হাতে কাজ চায়। আমরা কথা দিচ্ছি প্রত্যেকের হাতে হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দেব ইনশাআল্লাহ।’
তিনি বলেন, ‘প্রিয় মা-বোনেরা, ভাইয়েরা ও যুবকেরা, ২৪-এ যেভাবে বুকের রক্ত দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলেন, তেমনি ২৬-এর নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে। আমরা কোনো দলের বিজয় চাই না, আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। ইনকিলাব জিন্দাবাদ।’


-20260126205757.webp)
সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন