মাতামুহুরী নদীর জেগে ওঠা চরে তরমুজ চাষ হয়েছে। এই চাষের ফলে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মাতামুহুরী নদী ক্ষণে ক্ষণে রূপ বদলায়। বর্ষা মৌসুমে মাতামুহুরী নদীর স্রোতের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করে এই অঞ্চলের মানুষ। আবার শুষ্ক মৌসুমে এই নদীতেই খুঁজে পায় আশ্রয়। বর্ষা মৌসুমে মাতামুহুরী নদীতে পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে গড়িয়ে আসা পলিমাটি জমে কৃষিজমির উর্বরতা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
এমন আবহে একই জমিতে বছরে দুই ফসল বা তিন ফসল চাষাবাদ করলেও রকমারি সবজি থেকে ধান পর্যন্ত ভালো ফলন পাওয়া যায়, যা রীতিমতো চমকে ওঠার মতো।
চকরিয়া কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কৃষিখাতে প্রতি বছর রেকর্ড পরিমাণ খাদ্যশস্য উৎপাদনের পেছনে মূল নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করছে উপজেলার বুক চিরে প্রবাহমান মাতামুহুরী নদী। এই নদীর মিঠাপানির সেচ সুবিধা নিয়েই কৃষকেরা সবজিসহ নানা ফসল চাষ করে আসছেন। এরই বদৌলতে সবজি থেকে ধান—সব চাষেই ভালো ফলন হচ্ছে।
একসময় তরমুজ চাষ ছিল এই অঞ্চলে বেশ পরিচিত একটি দৃশ্য। কিন্তু আবহাওয়ার বৈরী আচরণ এবং ভেজাল বীজের চারা রোপণের ফলে অনিশ্চিত ফলনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে এই জনপদে তরমুজ চাষ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এমন প্রেক্ষাপটে তরমুজ চাষে আগ্রহ ও ভরসা হারিয়ে ফেলেন স্থানীয় কৃষকেরা।
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের মাস্টারঘাটা এলাকায় মাতামুহুরী নদীর জেগে ওঠা চরে চলতি মৌসুমে এশিয়া প্লাস জাতের তরমুজ চাষ করেছেন কৃষক নুরুল কবির। তিনি বলেন, ‘ছয় কানি জমিতে নভেম্বর মাসের শুরুতে চারা রোপণ করা হয়েছে। জমি লাগানো, সেচ খরচ ও শ্রমিক মজুরি মিলিয়ে আমার প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখন খেত পরিচর্যায় পুরো সময় দিচ্ছি। এশিয়া প্লাস জাতের তরমুজ ৬৫ দিনের মধ্যে ফলন শুরু হবে। মৌসুম শেষে ছয় কানি জমিতে আমি পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারব বলে আশাবাদী।’
কৃষক নুরুল কবিরের মতো পাশের পাহাড়ি জনপদ লামার ইয়াংছা এলাকায় এশিয়া প্লাস জাতের তরমুজ চাষ করেছেন চাষি আবদুস সালাম মেম্বার। তিনি বলেন, ‘নভেম্বর মাসে দুই কানি পাহাড়ি জমিতে তরমুজের চারা রোপণ করেছি। তিন মাসের মধ্যে এখন প্রতিটি গাছে ভালো ফলন এসেছে।’
চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহনাজ ফেরদৌসী বলেন, ‘উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলতি মৌসুমে সাড়ে সাত হেক্টর জমিতে কৃষকেরা তরমুজ আবাদ করেছেন। চাষের শুরু থেকেই কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তরমুজ চাষিদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হচ্ছে। চকরিয়ায় আগামীতে আরও সবজি চাষ বৃদ্ধি পাবে। সেই লক্ষ্যে কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত চাষ তদারকি করে কৃষকদের নানাভাবে পরামর্শ দিচ্ছেন। সে কারণেই ভালো ফলন এসেছে।’



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন