× UCB Sticker Card
রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম

ময়মনসিংহে সরগরম নির্বাচনি মাঠ : চ্যালেঞ্জে বিএনপি, স্বস্তি জামায়াতে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম

ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরগরম ময়মনসিংহের রাজনৈতিক মাঠ। গল্প-আড্ডায় চলছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। প্রচারে সমান সুযোগ চেয়ে হামলা-মামলার আশঙ্কা করছেন বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। স্বতন্ত্র ও বিএনপি প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি হামলা-মামলা-হত্যার কারণে জেলার ১১টি আসনের ৯টিতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বিএনপির প্রার্থীরা। তবে, জামায়াত প্রচারণায় স্বস্তিতে রয়েছে। এদিকে, ময়মনসিংহ-২ (ফুলবাড়িয়া-তারাকান্দা) আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য কারাগারে থাকায় তার নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছেন স্ত্রী।

ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া):

ভারত সীমান্তবর্তী ময়মনসিংহ-১ আসনে দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছেন। তবে পথ মোটেও মসৃণ নয়। উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সালমান ওমর রুবেল ঘোড়া প্রতীক নিয়ে নির্বাচনি মাঠে সরব প্রচারণা চালাচ্ছেন।

গত ১৬ জানুয়ারি ধোবাউড়া উপজেলার ঘোষগাঁও ইউনিয়নের এরশাদ বাজারে নির্বাচনি প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে নজরুল ইসলাম নামে এক কর্মী নিহত হন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের সমর্থক ছিলেন। এই ঘটনায় এমরান সালেহ প্রিন্স ও সালমান ওমর রুবেল পাল্টাপাল্টি সমাবেশ করছেন। এর ফলে হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়ার পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মামলার কারণে বিএনপি প্রার্থী বিপাকে পড়েছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থীর সাথে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া উপজেলা ও পৌর বিএনপির ৩০ নেতাকর্মীকে কেন্দ্রীয় বিএনপি বহিষ্কার করেছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাড. রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘যারা দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, তারা দলের সাথে বেইমানি করছে। জনগণ তাদের প্রতিবাদ ব্যালটের মাধ্যমে জানাবে। আমার আসনে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী লড়ছেন। তবে তারা আমাকে ব্যর্থ করার চেষ্টা করছেন, কিন্তু এতে সফল হতে পারছেন না। সাধারণ ভোটাররা আমার সঙ্গে রয়েছেন।’

স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল বলেন, ‘মাঠে টিকে থাকলে বিজয় আমাদের হবে। তবে কিছু কর্মী ভয়ভীতির মধ্যে আছে।’

ধোবাউড়া উপজেলা শহরের ব্যবসায়ী খাদেমুল ইসলাম বলেন, ‘এই আসনে নির্বাচন হাড্ডাহাড্ডি হবে। রুবেল মানুষের পাশে থেকে সহযোগিতা করে আসছেন।’

ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা):

বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শাহ শহীদ সারোয়ার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। তার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন পরিবারের সদস্য ও কর্মী-সমর্থকরা।

তার ভাই শাহ তারিক ইস্কান্দার বলেন, ‘ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় আমার বড় ভাইকে জেলে পাঠানো হয়েছে। জনগণ আমাদের পাশে থাকায় তিনি প্রার্থী হয়েছেন। তবে কর্মী-সমর্থকদের মামলা হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি দ্রুত জামিন হবে।’

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, ‘জনগণ তাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিএনপির দুঃসময়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। মানুষ ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনবে না।’

ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর):

প্রকৌশলী এম ইকবাল হোসাইনকে মনোনয়ন দেওয়ার পর গৌরীপুর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। দল থেকে বহিষ্কৃত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরন ঘোড়া প্রতীক নিয়ে মাঠে থাকায় তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী মূল ধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন।

হিরনের অনুসারীরা মনে করছেন, ‘ভোট ব্যাংক এবং ত্যাগ-তিতিক্ষার মূল্যায়ন হয়নি।’

এম ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘গৌরীপুরের ইতিহাসে ধানের শীষ প্রতীকে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে রেকর্ড তৈরি করব।’

ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া):

ধানের শীষের প্রার্থী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আখতারুল আলম। সাবেক এমপি শামছ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী আখতার সুলতানা প্রতীক ফুটবল নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন।

আখতার সুলতানা বলেন, ‘নারী ক্ষমতায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।’

এ আসনে জামায়াতের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক জেলা আমির অধ্যাপক জসিম উদ্দিনের কারণে স্থানীয় রাজনীতি উত্তপ্ত হয়েছে।

ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল):

সাবেক এমপি আব্দুল খালেক সরকারের ছেলে মুহাম্মদ আনোয়ার সাদত স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় ধানের শীষ প্রার্থী ডা. মাহাবুবুর রহমান লিটন বিপাকে পড়েছেন। লিটন শতভাগ আশাবাদী, তবে আনোয়ার সাদতের পারিবারিক ভোট ব্যাংক বড় হুমকি।

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ):

বিএনপির সাবেক এমপি শাহ নুরুল কবির শাহিন ধানের শীষ না পেয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু বলেন, ‘মানুষ প্রতীকের বাইরে ভোট দিবে না।’

শাহিন বলেন, ‘কর্মী-সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি মহল প্রভাব বিস্তার করছে। নির্বাচন কমিশনকে আরও তৎপর হতে হবে।’

ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল):

সাবেক চারবারের এমপি খুররম খান চৌধুরীর স্ত্রী হাসিনা খান চৌধুরীর মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় বিএনপির বিপুল ভোট বিদ্রোহীদের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে ধানের শীষ প্রার্থী ইয়াসের খান চৌধুরী মনে করেন, আসনটি তিনি তারেক রহমানকে উপহার দিতে পারবেন।

ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও):

বিএনপি প্রার্থী আক্তারুজ্জামান বাচ্চুর মনোনয়ন ঘোষণার পর উত্তপ্ত হয়ে পড়ে রাজনীতি। বিদ্রোহী প্রার্থীরা কিছু নাশকতা তৈরি করলেও সমঝোতার মাধ্যমে সরে গেছে। জামায়াত জোটের দুর্বল অবস্থায় ধানের শীষের সঙ্গে লড়াই হবে বিদ্রোহী প্রার্থী সিদ্দিকুর রহমানের।

ভোটার আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘সিদ্দিকুর রহমানের প্রতিরোধের কারণে বাচ্চু শহরে ঢুকতে পারেননি।’

ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা):

ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বিদ্রোহের আগুন জ্বলছে। সদ্য সাবেক উপজেলা আহ্বায়ক মুহাম্মদ মোর্শেদুল আলম বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন।

ধানের শীষ প্রার্থী ফখর উদ্দিন বলেন, ‘সকলেই ধানের শীষের পক্ষে রয়েছে। বিজয় নিশ্চিত।’

প্রতীক পাওয়ার পর সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৩০ নেতাকর্মী আহত হন। চারটি মামলা দায়ের হয়েছে।

হরিণ প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদুল আলম বলেন, ‘মানুষ চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীকে ভোট দেবে না।’

এ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির ডা. জাহিদুল ইসলাম।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, ‘প্রচারে সকল প্রার্থী সমান সুযোগ পাবেন। কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

Link copied!