আর মাত্র ছয় দিন পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলো এখন প্রচারে ব্যস্ত। নিজ নিজ দলের পক্ষে ভোট চাইতে তারা ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। আয়োজন করা হচ্ছে মিছিল ও সমাবেশ।
তবে একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য গণভোট সম্পর্কে গ্রামাঞ্চলের ভোটাররা এখনো রয়ে গেছেন অস্পষ্টতায়। সচেতন ভোটাররা এ বিষয়ে কমবেশি অবগত থাকলেও গ্রামাঞ্চলের অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত ভোটারদের অনেকেই এখনো অন্ধকারে রয়ে গেছেন।
এবার আসন্ন নির্বাচনে সীমান্ত জনপদ শার্শা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে যশোর-১ আসন গঠিত। দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল এই আসনের অন্তর্ভুক্ত।
যশোর-১ আসনে এবার বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই আসনে বর্তমানে মোট ভোটার ৩ লাখ ১১ হাজার ৬৩৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮০৭ জন, মহিলা ভোটার ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮২৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার রয়েছেন ৩ জন।
বেনাপোল ও উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, চায়ের দোকান থেকে পাড়া-মহল্লায় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা থাকলেও গণভোট বিষয়ে তেমন আলোচনা নেই। গণভোটে গ্রামাঞ্চলের মানুষের আগ্রহ তুলনামূলকভাবে কম। তারা মূলত নিজেদের পছন্দের প্রতীকে ভোট দিতে আগ্রহী।
সাধারণ মানুষের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ থাকলেও গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই। সরকারের পক্ষ থেকে গণভোট বিষয়ে প্রচার চালানো হচ্ছে বলে জানানো হলেও বাস্তবে উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে এ-সংক্রান্ত প্রচার নেই বললেই চলে।
প্রার্থীরাও নিজেদের প্রতীকে ভোট চাইছেন। কিন্তু ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের বিষয়ে তেমন কিছু বলছেন না। ফলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তি রয়ে গেছে।
বেনাপোল পৌরসভার দিঘীরপাড় গ্রামের ভোটার আনিছুর রহমান বলেন, হ্যাঁ-না ভোটের কথা আমি কিছুই বুঝি না। আমি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় প্রতীকে ভোট দিয়ে আসছি। প্রতীক ছাড়া ভোট দেওয়া আমার জন্য কঠিন।
ওই এলাকার ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বলেন, যাকে ভালো লাগবে তাকেই ভোট দেব।
শার্শা উপজেলার সিরাজুল ইসলাম বলেন, হ্যাঁ-না ভোট সম্পর্কে কিছুই জানি না।
বাগআঁচড়া এলাকার নাজিম উদ্দিন জানান, একদিন হ্যাঁ-না ভোটের একটি গাড়ি এসেছিল। তারপর আর কোনো প্রচার হয়নি। আমরা দীর্ঘদিন ধরে প্রতীকেই ভোট দিয়ে আসছি।
যশোর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন বলেন, আমরা প্রচারের সময় আমাদের প্রতীকের ভোট চাওয়ার পাশাপাশি হ্যাঁ-না ভোটের বিষয়েও প্রচার করছি। দলীয় নেতাকর্মীরাও প্রচার চালাচ্ছেন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মুহাম্মদ আজীজুর রহমান বলেন, আমি ও আমাদের নেতাকর্মীরা প্রতিটি সমাবেশ, উঠান বৈঠক ও প্রচারে আমাদের প্রতীকের পাশাপাশি হ্যাঁ-না ভোট প্রদানের জন্য ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করছি। আশা করি, এই আসনে হ্যাঁ ভোট জয়যুক্ত হবে।
এ বিষয়ে শার্শার ইউএনও ফজলে ওয়াহিদ বলেন, তপশিল ঘোষণার পর থেকেই হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সভা-সমাবেশের মাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া পোস্টার, মাইকিং, ভোটের গাড়ি, উঠান বৈঠক, সরাসরি আলোচনা এবং সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশনে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে হ্যাঁ ও না ভোটের অর্থ ও সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরে ভোটারদের বিভ্রান্তি দূর করার চেষ্টা করা হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন