বাংলার ইতিহাসে শাসকের রং ও পরিচয় বদলালেও শোষণের ধরন কখনো বদলায়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক। তিনি বলেন, একসময় সাদা চামড়ার শাসক, পরে খান-পাঠান শাসক, স্বাধীনতার পর দেশীয় শাসক—সবার হাতেই বাংলার মানুষ শোষিত হয়েছে। শাসকেরা জনগণের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে দেশের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে।
বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মামুনুল হক বলেন, স্বাধীনতার পরও দেশের শাসকেরা বাংলার সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে। চব্বিশের বিপ্লবের মাধ্যমে পুনর্বাসিত কিছু মানুষ আবার বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা নতুন করে লুটপাটের মহোৎসবে মেতে উঠেছে, শুরু করেছে চাঁদাবাজি। এসব চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছে গরিব-দুঃখী মানুষ ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা।
তিনি আরও বলেন, ‘আজ যে ১১টি দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, আমাদের উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তি, দল বা জোটের ভাগ্য গড়া নয়। আমরা ঐক্য গড়েছি বাংলাদেশের মানুষের অধিকার বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য। আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই নির্বাচন হবে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে পেশিশক্তি, কালো টাকা, সন্ত্রাস ও গুন্ডামি উৎখাত করার নির্বাচন।’
গণভোটের বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরে মামুনুল হক বলেন, ‘আমরা প্রথম দিন থেকেই গণভোটের প্রশ্নে পরিষ্কার অবস্থানে আছি। যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশে গণভোটের ‘হ্যাঁ’কে জয়যুক্ত করতে হবে। জুলাই বিপ্লবকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। জুলাই যোদ্ধাদের স্বপ্নের জুলাই বিপ্লবকে সফল করতে হলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা আব্দুল মুমিন শেরজাহান। বিশেষ অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের মনোনীত প্রার্থী মুফতি হেদায়েতুল্লাহ হাদী।
এ সময় ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী মুফতি হেদায়েতুল্লাহ হাদীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। জনসভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও বিপুল সংখ্যক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন