একসময়ের আতঙ্ক আর অস্থিরতার জনপদ শৈলকুপা। রাজনৈতিক সংঘর্ষ, মামলা-হামলা আর রক্তপাতের খবরে যে জনপদ পরিচিত ছিল, সেই শৈলকুপাই এখন আলোচনায়—শান্ত পরিবেশ ও নির্বিঘ্ন জনজীবনের কারণে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এই পরিবর্তিত চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নির্বাচনি তৎপরতা থাকলেও কোথাও নেই উত্তেজনা কিংবা সহিংসতার আশঙ্কা। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ৩০৪টি গ্রামজুড়ে নির্বাচনি প্রচার চলছে স্বাভাবিক ও উৎসবমুখর পরিবেশে। মোট ৩ লাখ ২৫ হাজার ২৭৮ জন ভোটারের এই আসনে এবারের নির্বাচন তাই বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে।
পাঁচজন প্রার্থী নির্বাচনি মাঠে থাকলেও আলোচনার কেন্দ্রে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এ এস এম মতিউর রহমান।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামানের নামের সঙ্গে শান্ত পরিবেশ ফেরার বিষয়টি এখন ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে গেছে। তার ১৭ মাসের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং শৈলকুপায় সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা অনেক ভোটারের আস্থার জায়গা তৈরি করেছে।
গত দেড় বছরে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড না হওয়া, সামাজিক বিরোধ কমে যাওয়া এবং মামলা-মোকদ্দমার প্রবণতা হ্রাস পাওয়াকে অনেকে শৈলকুপার বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। একসময়ের ‘সহিংস এলাকা’ তকমা মুছে গিয়ে এখন এই উপজেলা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
নির্বাচনি প্রচারে আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো নারী ভোটারদের সক্রিয় উপস্থিতি। পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে পথসভা—সবখানেই নারীদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ছে। ভোটের মাঠে এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু সালেহ মতিউর রহমানও সংগঠিত কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ধারাবাহিকভাবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে দলটির নারী ও ছাত্রী সংগঠনের কর্মীরা সাহসী ও দৃশ্যমান প্রচারে সক্রিয়।
এ ছাড়া কাঁচি প্রতীক নিয়ে মার্কসবাদী দলের শহিদুল এনাম পল্লব, ঈগল প্রতীক নিয়ে এবি পার্টির মতিয়ার রহমান এবং লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টির মনিকা আলম নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
সব মিলিয়ে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শৈলকুপায় এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেয়ে বেশি আলোচনায় শান্ত পরিবেশ ও পরিবর্তিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি। সহিংসতার অধ্যায় পেরিয়ে এই উপজেলা এখন কোন পথে এগোয়—সেটাই দেখার অপেক্ষা সাধারণ মানুষের।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন