‘সাজুক সবাই বাসন্তী সাজে’ এই প্রতিপাদ্যকে অনুসঙ্গ করে নরসিংদীর শিবপুর সরকারি শহীদ আসাদ কলেজ-এ বর্ণিল বসন্ত বরণ ও পিঠা উৎসব ১৪৩২ উদযাপিত হয়েছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে কলেজ প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য বসন্ত বরণ ও পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়।
বসন্ত বরণ ও পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন শিবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. ফারজানা ইয়াসমিন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সরকারি শহীদ আসাদ কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাসির উদ্দিন, অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, আবুল বাসার ভূইয়া, নাদির হোসেন, এস. এম. আমজাদ হোসেন, সালাউদ্দিন মুর্তজা, নীगार লায়লা নীলা, ইমরুল কায়েস, শামীম মৃধা, শিবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আলতাফ হোসেন, শিবপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূর মোহাম্মদ আলমগীর, শিবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হারিছ রিকাবদারসহ কলেজের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী।
পরে সরকারি শহীদ আসাদ কলেজের শহীদ মিনার চত্বরে শুরু হয় পিঠা উৎসব। ১১টি স্টলে ভাপা, পাটিসাপটা, দুধপুলি, মালাইপুলি, তিতই, ডিম পিঠা, চিকেন পিঠা, মালপোয়া, ফুল পিঠা, পাকান পিঠা ও বিবিখানাসহ ঘরে বানানো অন্তত ৪০ রকমের পিঠা প্রদর্শন করা হয়। এতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। দিনব্যাপী এই উৎসবে বিভিন্ন বয়সের মানুষ বাংলার ঐতিহ্যে লালিত পিঠার স্বাদ গ্রহণ করেন। বিকেল পর্যন্ত চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে সংগীত, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তি পরিবেশন করেন শিক্ষার্থীরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, ‘বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতেই এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু। এই দেশের সংস্কৃতিকে বুকে ধারণ করে সরকারি শহীদ আসাদ কলেজ এগিয়ে যাচ্ছে। মাটি ও মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়ে প্রান্তিক পর্যায়ে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতেই আমাদের সমগ্র কর্মকাণ্ড চলমান রয়েছে। বসন্তের রং আর ফুলের গন্ধে ভরে উঠুক সরকারি শহীদ আসাদ কলেজের সবুজ ক্যাম্পাস।’ পিঠা উৎসব ও বসন্ত বরণের আয়োজক ও অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।
সরকারি শহীদ আসাদ কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘বসন্তের এই আগমনী দিনে যারা সরকারি শহীদ আসাদ কলেজকে মুখরিত করেছে এবং নান্দনিকভাবে সাজিয়েছে, তাদের ধন্যবাদ জানাই। আগামীতে শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে আরও সুন্দর আয়োজন করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশজ সংস্কৃতিনির্ভর আনুষ্ঠানিকতা আমাকে আগ্রহী করে। আজকের বসন্ত বরণ ও পিঠা উৎসবে উপস্থিত থাকতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। মনে পড়ছে শৈশবের দিনগুলোর কথা। যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই অনুষ্ঠান সফল করেছে, তাদের নন্দিত অভিনন্দন।’



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন