ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দেশজুড়ে যখন বিজয়ের উচ্ছ্বাস, তখন সিলেট বিভাগে ভিন্ন সুর-সদ্য ঘোষিত মন্ত্রিসভার প্রথম তালিকায় প্রত্যাশিত প্রতিনিধিত্ব না থাকায় তৈরি হয়েছে ক্ষোভ ও হতাশা। সিলেটে ঐতিহাসিক ফলাফলে এবারের নির্বাচনে সিলেট বিভাগের ১৯টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৮টিতেই বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি নির্বাচনি সাফল্য নয়, বরং অঞ্চলে দলের প্রতি শক্তিশালী জনসমর্থনের প্রতিফলন। তবে ঘোষিত মন্ত্রিসভায় সিলেট বিভাগ থেকে স্থান পেয়েছেন মাত্র দু’জন প্রতিনিধি। এতে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে বিজয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখার পরও প্রতিনিধিত্বে ঘাটতি কেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে চায়ের আড্ডা সবখানেই আলোচনা, ভোটে সবচেয়ে বড় শক্তি, কিন্তু ক্ষমতার কাঠামোয় প্রায় অনুপস্থিত।
পাঁচ আসনে জয়, তবু মন্ত্রিসভায় নেই সুনামগঞ্জ হাওরবেষ্টিত সুনামগঞ্জ জেলার পাঁচটি আসনেই বিএনপি প্রার্থীদের বিজয় এসেছে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে। স্থানীয় নেতাদের ভাষ্য, জেলার সর্বস্তরের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়ে দলকে শতভাগ সমর্থন জানিয়েছেন। কিন্তু মন্ত্রিসভার ঘোষিত তালিকায় সুনামগঞ্জের কোনো প্রতিনিধির নাম না থাকায় হতাশা স্পষ্ট।
প্রবীণ এক রাজনীতিক বলেন, আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থে সুনামগঞ্জের প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত ছিল। এটি শুধু রাজনৈতিক প্রশ্ন নয়, সম্মানের বিষয়ও।
মন্ত্রিসভায় সুনামগঞ্জ থেকে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম চারবারের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। ছাতক–দোয়ারাবাজার আসন থেকে নির্বাচিত এই নেতাকে স্থানীয়ভাবে উন্নয়নমুখী ও গ্রহণযোগ্য রাজনীতিক হিসেবে উল্লেখ করছেন সমর্থকরা।
তার অনুসারীদের দাবি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক যোগাযোগ, হাওর উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক নানা উদ্যোগে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাদের মতে, মিলনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে তা সুনামগঞ্জবাসীর প্রতি ইতিবাচক বার্তা দেবে এবং সরকারের প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় হবে। প্রবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলের প্রত্যাশা
সিলেট বিভাগ দেশের রেমিট্যান্স আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসীর শেকড় এ অঞ্চলে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রবাসী মহলের মতে, জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা অঞ্চলের যথাযথ মূল্যায়ন রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার গঠনের পর মন্ত্রিসভায় আঞ্চলিক ভারসাম্য নিশ্চিত করা দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। যে অঞ্চলে দল ব্যাপক জনসমর্থন পেয়েছে, সেখানে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হলে রাজনৈতিক বার্তাও শক্তিশালী হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন