চার শিশুর ভবিষ্যৎ এখন কোন পথে যাবে, কে মেটাবে মায়ের শূন্যতা!
কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার সন্তানদের কথা বলা হচ্ছে। আসমা-ইমতিয়াজ দম্পতির সংসারে তিন মেয়ে ও এক ছেলে। ইফফাত তায়্যিবা ইলমা (৯), জান্নাতুল বুশরা তুবা (৭), মোহাম্মদ আবরার সাজিদ (৩) ও দেড় বছরের আয়েশা জান্নাত। বড় মেয়ে স্থানীয় স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী, মাঝের দুজন মায়ের আঁচল আঁকড়ে রাখা দুষ্টুমিতে ভরা শিশু আর সবচেয়ে ছোট আয়েশা এখনো মায়ের বুকের দুধ ছাড়া ঘুমাতে শেখেনি।
স্বামী-স্ত্রী দুজনই চাকরিজীবী হওয়ায় সংসার চলত সচ্ছলতার মধ্যেও সাদামাটা আনন্দে। কুষ্টিয়া শহরে একটি বেসরকারি স্কুলও পরিচালনা করতেন ইমতিয়াজ সুলতান। স্বপ্ন দেখতেন সন্তানদের নিয়ে একটু গুছিয়ে থাকার।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে কোর্টপাড়ার বাসার নিচতলার গ্যারেজজুড়ে মানুষের ভিড়। শিশুদের কান্না, স্বজনের দীর্ঘশ্বাস। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সহকর্মী, প্রতিবেশী সবাই একবার শেষবারের মতো দেখতে ভিড় করেন প্রিয় শিক্ষিকাকে। মরদেহ জানাজায় নিয়ে যাওয়ার আগে বাসার আঙিনায় শেষবারের মতো চাদর সরিয়ে চার সন্তানের সামনে রাখা হয়। বড় দুই মেয়ের বুকফাটা কান্না, ছোট আবরারের কাঁদতে কাঁদতে নিস্তেজ হয়ে পড়া, আর আয়েশার বোবা দৃষ্টি সেই মুহূর্তে উপস্থিত অনেকেই মুখ ফিরিয়ে চোখের পানি লুকাতে বাধ্য হন।
কিছুক্ষণ পর জানাজার উদ্দেশে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হলে শিশুরা হাত তুলে যেন শেষবারের মতো মায়ের চলে যাওয়াকে আটকে রাখতে চাইলেও বাস্তবতার কঠিন দেয়াল সেই আর্তনাদকে থামিয়ে দেয়।
স্ত্রীকে হারিয়ে শোকাহত ইমতিয়াজ সুলতান এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না, যে যার সঙ্গে সংসার গুছিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখতেন, সেই নারী আর কখনো ফিরবেন না। সবার সামনে তিনি শুধু বলতে পারেন, ‘আমার চারটা ছোট মাসুম শিশু মা হারা হয়ে গেল। তারা মায়ের আদর-স্নেহ ছাড়া কীভাবে থাকবে—আমি ভাবতেই পারছি না। এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। এখন সবার মনে প্রশ্ন চার শিশুর ভবিষ্যৎ এখন কোন পথে যাবে, কে মেটাবে মায়ের শূন্যতা আর আঁধার নামা এই ঘরের নিঃশব্দ কান্না।
উল্লেখ্য, বেতন-সংক্রান্ত বিরোধ ও অন্য বিভাগে বদলির ক্ষোভের জেরে কর্মচারী ফজলুর কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহযোগী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে (৩৮) ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানও নিজ গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অন্তর্ভুক্ত সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যানের দপ্তরে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন