× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মার্চ ৭, ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম

শালবনে কৃত্রিম লেক খননের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মার্চ ৭, ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম

বিক্ষোভ সমাবেশ। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

বিক্ষোভ সমাবেশ। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

টাঙ্গাইলের মধুপুর শালবনে কৃত্রিম লেক খনন ও উন্নয়নের নামে আদিবাসীদের প্রথাগত ভূমি থেকে উচ্ছেদের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে আদিবাসী ছাত্র-জনতা।

শুক্রবার ‘সম্মিলিত আদিবাসী ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে উপজেলার অরণখোলা ইউনিয়নের আমলীতলা মাঠে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের ছাত্র-যুবকসহ স্থানীয় সাধারণ মানুষ অংশ নেন। লেক সংস্কারকাজের উদ্বোধনের পর এটি তৃতীয়বারের মতো বিক্ষোভ কর্মসূচি।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, মধুপুর শালবন আদিবাসীদের জীবিকা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নের নামে নানা প্রকল্প গ্রহণ করে তাদের পৈতৃক ভিটা ও আবাদি জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা চলছে।

সামাজিক বনায়ন, রাবার বাগান ও ইকো-পার্ক নির্মাণের পর এখন কৃত্রিম লেক খননের উদ্যোগকে আদিবাসীরা তাদের ভূমি দখলের নতুন কৌশল হিসেবে দেখছেন।

বক্তারা বলেন, এই বন যতদূর, ঠিক ততদূর আমার বাড়ি; এই মাটিতেই পোতা আছে আমার নাড়ি। তাদের অভিযোগ, শালবনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করে তথাকথিত উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় গারো, কোচ, বর্মণসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অস্তিত্ব সংকটে ফেলা হচ্ছে।

সমাবেশ থেকে আন্দোলনকারীরা কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে আদিবাসীদের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনা ছাড়া মধুপুর বনে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন না করা, কৃত্রিম লেক সংস্কারসহ আদিবাসী স্বার্থবিরোধী সব কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমি ও প্রথাগত ভূমি প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।

এ ছাড়া আদিবাসীদের ভূমি ও বন অধিকারের আইনগত স্বীকৃতি প্রদান এবং অতীতের সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।

সমাবেশ শেষে নেতারা জানান, দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি মধুপুর বনের গড়গড়িয়া এলাকায় লেক সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে বন বিভাগ ও স্থানীয় আদিবাসীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বন বিভাগ এটিকে বন্যপ্রাণীর পানির সংকট নিরসনের উদ্যোগ হিসেবে দাবি করলেও আদিবাসীরা একে তাদের প্রথাগত ভূমি দখলের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের সাবেক সভাপতি এ্যান্টনি রেমা। বক্তব্য দেন জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জন জেত্রা, গারো স্টুডেন্ট ফেডারেশন (জিএসএফ) কেন্দ্রীয় পরিষদের সভাপতি প্রলয় নকরেক, বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের সভাপতি টনি ম্যাথিউ চিরান, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি কনেজ চাকমা।

গারো স্টুডেন্ট ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক জানকী চিসিম, বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাছাস)-এর সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব রেমা, কোচ আদিবাসী সংগঠনের সভাপতি গৌরাঙ্গ বর্মণ, আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ঢাকা মহানগর শাখার সদস্য কুর্নিকোভা চাকমা, জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের প্রচার সম্পাদক জুয়েল রিছিল।

বাগাছাসের সাবেক সভাপতি নিউটন মাজি, নারীনেত্রী অপর্ণা দফো, নাগরিক অধিকার সুরক্ষা মঞ্চ বাংলাদেশের আহ্বায়ক শেখ সেলিম কবির, আ·বিমা গারো ইয়্যুথ অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সত্যজিৎ নকরেক, বাগাছাস ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি সৃজম মৃ এবং গারো স্টুডেন্ট ফেডারেশন মধুপুর উপজেলা শাখার সভাপতি তুষার নেকলা।

সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন গারো স্টুডেন্ট ফেডারেশন (জিএসএফ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লিয়াং রিছিল।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!