ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ধারা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে টিসিবির বস্তা পরিবর্তন করা ৪৭ বস্তা চাল উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন।
শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত ৯টার দিকে চালগুলো উদ্ধার করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টিসিবির কার্ডধারীদের মধ্যে চালগুলো বিতরণ করার কথা ছিল। কিন্তু টিসিবির ডিলার আব্দুস সালাম টিসিবির চালের বস্তুা খুলে চালগুলো অন্য বস্তুায় ভরেন। মূলত টিসিবির কার্ডধারীদের মধ্যে বিতরণ না করে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই ডিলার অন্য বস্তায় চালগুলো আলাদা করে ইউনিয়ন পরিষদে রাখেন। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে উপজেলা প্রশাসন চালগুলো জব্দ করে।
হালুয়াঘাট উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্নয়কারী আবু রায়হান বলেন, বস্তা পাল্টে টিসিবির চাল এভাবেই দেদারসে বিক্রি করছে ডিলার। রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদের তালা ভেঙ্গে টিসিবির চালগুলো উদ্ধার করা হয়। এর আগেই অবস্থা বেগতিক দেখে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবসহ ডিলারের লোকজন পালিয়ে যায়।
বক্তব্য জানতে টিসিবির ডিলার আব্দুস সালামের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলীনূর খান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের তালাবদ্ধ কক্ষের তালা ভেঙে দেখা যায়- টিসিবির ৫০ কেজি ওজনের বস্তাগুলো খুলে ২৫ কেজি ওজনের আলাদা বস্তায় চাল ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় টিসিবির চাল অন্য বস্তায় ভরা অবস্থায় ২৫ কেজি ওজনের ৪৭ বস্তা চাল পাওয়া যায়। এগুলো জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া পাশে ছিল টিসিবির ৫০ কেজি ওজনের আরও ১৪ থেকে ১৫ বস্তা চাল।
তিনি বলেন, এ কাজে জড়িত সন্দেহে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবকে শোকজ করা হবে। লিখিত জবাব সন্তোষজনক না হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদের দফাদারকেও জিগ্যেসেবাদ করা হবে।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন যাবত টিসিবির কার্ডধারীদের মধ্যে চাল বিতরণ করলেও অনেক চাল অন্য বস্তায় ভরে অন্যত্র বিক্রি করতেন ডিলার আব্দুস সালাম। এবার তার সত্যতা মেলায় ডিলার আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিতভাবে জানানোর প্রস্তুতি চলছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন