রাজশাহীর তানোর পৌরসভার সাবেক মহিলা কাউন্সিলর জুলেখা ও তাঁর স্বামী শফিকুলের বিরুদ্ধে প্রায় ৪ লাখ টাকা ও একটি পালসার মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে।
জুলেখার বাড়ি পৌর এলাকার বেলপুকুরিয়া গ্রামে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কাউন্সিলরের বাড়ি সংলগ্ন রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আলু ব্যবসায়ী মিনারুল ইসলাম বাদী হয়ে সাবেক কাউন্সিলর জুলেখা, তাঁর স্বামী শফিকুল ও আলু ব্যবসায়ী রাজ্জাককে বিবাদী করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
মিনারুলের বাড়ি রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের হরিহরপাড়া গ্রামে। তিনি রেজাউল ইসলামের ছেলে।
ছিনতাইয়ের শিকার মিনারুল ইসলাম জানান, গত মৌসুমে তালন্দ এলাকার রাজ্জাকের মাধ্যমে রাজ কোল্ড স্টোরে শফিকুলের ২০০ বস্তা আলু বুকিং রাখা হয়।
পরে সেই আলু ১২ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়। সব হিসাব-নিকাশ শেষে কাউন্সিলরের স্বামী ২১ হাজার টাকা পাওনা হন। ঈদের আগের রাতে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয় এবং বাকি ১৬ হাজার টাকা ঈদের এক সপ্তাহের মধ্যে দেওয়ার কথা ছিল।
তিনি আরও জানান, বেলপুকুরিয়া গ্রামে আলু চাষি টিপুর কাছ থেকে আলু কেনার জন্য ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় কাউন্সিলরের বাড়ির কাছে পৌঁছালে তাঁর পথরোধ করে টাকার ব্যাগ ও মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং মারধর করা হয়। পরে কোনোভাবে সেখান থেকে পালিয়ে তালন্দে গিয়ে বন্ধুর সহায়তায় থানায় অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে সাবেক কাউন্সিলর জুলেখা বলেন, ঘটনার সত্যতা আংশিক স্বীকার করে তিনি দাবি করেন, মিনারুলের ব্যাগে কোনো টাকা ছিল না; সেখানে শুধু কিছু কাগজপত্র ও ক্যালকুলেটর ছিল।
তবে মোটরসাইকেল তাঁর বাড়িতে আছে বলে তিনি স্বীকার করেন। তিনি আরও বলেন, “আমার পাওনা টাকা দীর্ঘদিন ধরে না দেওয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে।”
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, জুলেখা ও তাঁর স্বামী নানা কৌশলে এভাবে অর্থ আদায় করে থাকেন। তারা এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের একজন রাজ্জাক বলেন, কাউন্সিলরের আলু বিক্রির টাকা পরিশোধ নিয়ে বিরোধ ছিল। তবে তিনি ছিনতাইয়ের ঘটনার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
তানোর থানার ওসি এস এম মাসুদ পারভেজ বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন