× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশিত: মার্চ ২৮, ২০২৬, ১২:৪০ পিএম

নিউমোনিয়া ও হামে বাড়ছে মৃত্যু, রামেকে আড়াই মাসে ৬২ শিশুর প্রাণহানি

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশিত: মার্চ ২৮, ২০২৬, ১২:৪০ পিএম

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিনই শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। হাসপাতালে নিউমোনিয়া ও হাম রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। আইসিইউতেও শিশুদের শয্যা সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। গত আড়াই মাসে ৫৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যারা কোনো আইসিইউ সুবিধা পাননি। এ ছাড়া আইসিইউতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি আরও ৯টি শিশুকে। সব মিলিয়ে ৬২টি শিশুর প্রাণহানির এই পরিসংখ্যান শুধু রামেক হাসপাতালের।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মৃত শিশুদের বেশির ভাগই নিউমোনিয়া ও হাম আক্রান্ত ছিল। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব রোগের জটিলতা বাড়লে দ্রুত নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন হয়; কিন্তু রামেক হাসপাতালে শিশুদের জন্য আলাদা আইসিইউ নেই। তবে সাধারণ আইসিইউর ১২টি বেড শিশুদের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে। ফলে বেড খালি না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

শিশু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি বেডে একাধিক রোগী, কোথাও মেঝেতেও চলছে চিকিৎসা। অক্সিজেনের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে রোগীদের। এক বেডে ২-৩ জন করে শিশু রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীর স্বজনদের ঠাসাঠাসি ও গাদাগাদি অবস্থার পাশাপাশি নার্সদের ব্যস্ততা এবং স্বজনদের উৎকণ্ঠা—সব মিলিয়ে ওয়ার্ডজুড়ে এক ধরনের চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। শিশুর বাবা-মায়েরা অভিযোগ করছেন, সময়মতো আইসিইউ সুবিধা পেলে হয়তো তাদের সন্তানদের বাঁচানো যেত।

পবা উপজেলার মুরারিপুর এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নূহ আলম। দুই সপ্তাহ ধরে তার সাড়ে ৮ মাস বয়সি অসুস্থ শিশুসন্তানকে নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে অবস্থান করছেন। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুটির তীব্র শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। সন্তানের এমন কষ্ট সহ্য করতে পারছেন না তিনি। চিকিৎসকরা শিশুটিকে জরুরিভিত্তিতে আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন; কিন্তু আইসিইউতে কোনো বেড খালি নেই।

সিরিয়াল দিয়ে আইসিইউর সামনে অপেক্ষা করছেন তিনি। তার সিরিয়াল নম্বর ২৭। বেড খালি হওয়ার আশায় দিন কাটছে তার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আইসিইউ পাওয়া যাবে কি না তা অনিশ্চিত। কারণ আইসিইউতে সাধারণত রোগীদের দীর্ঘ সময় চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, ফলে সহজে বেড খালি হয় না। এ কারণে ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে অপেক্ষা করতে হচ্ছে নূহ আলমকে। এভাবে অপেক্ষায় থেকেই গত আড়াই মাসে ৫৩টি শিশু মারা গেছে।

রামেক হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, ১২ শয্যার শিশু আইসিইউতে কেউ মারা না গেলে সাধারণত বেড খালি হয় না। কোনো শিশু মারা গেলে তখন অপেক্ষমাণ তালিকা অনুযায়ী অভিভাবকদের ফোন করা হয়। তিনি নিশ্চিত করেন, আইসিইউ না পেয়ে গত আড়াই মাসে ৫৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ১১ থেকে ১৮ মার্চের মধ্যেই আইসিইউতে ভর্তির অপেক্ষায় থাকা ২৮ শিশু মারা গেছে। আর আইসিইউতে ভর্তির পর মারা গেছে আরও ৯ শিশু।

রামেক হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, নিউমোনিয়ার পাশাপাশি হাম মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। অনেক অভিভাবক শিশুদের টিকার ডোজ সম্পন্ন করছেন না, যার ফলে হাম রোগের প্রকোপ বাড়ছে। হামে শিশুমৃত্যুর ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলছেন তারা।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেড়েছে স্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম চলমান। কিন্তু কী কারণে হাম বাড়ছে তা বলা যাচ্ছে না। তবে শিগগিরই সারা দেশে টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর উদ্যোগ নেবে।’

Link copied!