লিচুর রাজধানী হিসেবে খ্যাত পাবনা। এই জেলার উৎপাদিত লিচুর কদর দেশজুড়ে। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি লিচু চাষ হয়ে থাকে ঈশ্বরদী উপজেলায়। এ উপজেলার পথেঘাটে এখন মুকুলের সুবাস। বাগানের গাছগুলোতে থোকায় থোকায় মুকুল ভরে গেছে। লিচুর সোনালি মুকুল হাওয়ায় দোলা দিচ্ছে। লিচুর বাম্পার ফলনের আশাবাদী চাষি ও কৃষি কর্মকর্তারা।
সুস্বাদু ও রসালো মৌসুমি ফল লিচু। পাবনার লিচুর সুনাম রয়েছে দেশজুড়ে। জেলার সদর উপজেলার কিছু অংশ এবং ঈশ্বরদীর আওতাপাড়া, সিলিমপুর, সাহাপুর, রূপপুর, জয়নগর, চর রূপপুর, তিনগাছা, বাঁশেরবাদা প্রভৃতি এলাকায় বাগানের পর বাগানে সারি সারি লিচু গাছ দেখা যায়।
ঈশ্বরদীর পাশাপাশি চাটমোহর উপজেলাতেও লিচুর ব্যাপক চাষ হয়। লিচুর বাগানগুলো এখন মুকুলে ভরে গেছে। বাগানিরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছের পরিচর্যায়। গাছে পানি সেচসহ সব ধরনের পরিচর্যা করা হচ্ছে। মুকুলের সমারোহে বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষিরা। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো লাভ হবে বলে মনে করছেন তারা।
উপজেলার আওতাপাড়া গ্রামের লিচু চাষি আবুল হোসেন জানান, তার বাগানে ১৩৭টি লিচু গাছ রয়েছে। এর মধ্যে ৬ থেকে ৭টি গাছ বাদে প্রায় সব গাছেই পর্যাপ্ত মুকুল এসেছে। মুকুল যাতে ঝরে না পড়ে, সে জন্য নিয়মিত পরিচর্যা করছেন। প্রতিটি গাছে প্রয়োজনীয় পানি ও কীটনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। মুকুলের অবস্থা দেখে তিনি ভালো ফলনের আশা করছেন।
সরেজমিনে ঈশ্বরদী উপজেলায় গিয়ে দেখা যায়, মুকুলে নুয়ে পড়া লিচু গাছগুলোর মিষ্টি গন্ধে চারপাশ মাতোয়ারা। বাগানে মৌবাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করছেন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মৌ খামারিরা। মৌবাক্স বসানোর ফলে বাগান মালিক ও মৌ খামারিরা উপকৃত হচ্ছেন। তবে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় কিছু ক্ষেত্রে মৌ খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, পাবনার অতিরিক্ত উপ-পরিচালক রাফিউল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষি বিভাগের আশা বাম্পার ফলনের।
তিনি আরও জানান, চলতি বছর পাবনায় ৪ হাজার ৬২৪ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। এ থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৪ হাজার ৯৯৮ মেট্রিক টন।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন