বরগুনার পাথরঘাটায় অবৈধভাবে মজুদ করা বিপুল পরিমাণ ডিজেল উদ্ধার করেছে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)। শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে পরিচালিত এ অভিযানে ১৯৩ ব্যারেল বা প্রায় ৩৮ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাথরঘাটা উপজেলার বিএফডিসি সংলগ্ন স্লুইস গেট এলাকায় অবস্থিত একটি গোডাউনে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এনএসআই এ অভিযান চালায়।
গোডাউনটি পদ্মা অয়েল কোম্পানির এজেন্ট মো. আব্দুল্লাহর মালিকানাধীন মেসার্স গাজী স্টোরের অন্তর্ভুক্ত। অভিযানের সময় সেখানে অবৈধভাবে মজুদ করা ১৯৩ ব্যারেল ডিজেল উদ্ধার করা হয়।
অবৈধ মজুদদারির অভিযোগে গোডাউনের মালিক মো. আব্দুল্লাহকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। উদ্ধার করা ডিজেল পরবর্তীতে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে স্থানীয় জেলেদের মধ্যে বিক্রি করা হয়, যা এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনে।
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের সংকট শুরু হওয়ার পর থেকেই পাথরঘাটায় মজুদদারি বেড়ে যায়।
পাথরঘাটা একটি মৎস্যনির্ভর এলাকা হওয়ায় এখানে হাজার হাজার জেলে এবং শত শত মাছ ধরার ট্রলার রয়েছে। ট্রলারের আকার অনুযায়ী প্রতিটিতে ২ থেকে ২০ ব্যারেল পর্যন্ত ডিজেল প্রয়োজন হয়।
তিনি আরও জানান, পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী প্রতি ব্যারেলে ২ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি দামে ডিজেল বিক্রি করছিলেন, ফলে জেলেরা মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েন।
গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, “আজকের এই অভিযানের ফলে জেলেরা উপকৃত হয়েছেন। তবে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে কেউ অবৈধভাবে জ্বালানি মজুদ করে বাজার অস্থিতিশীল করতে না পারে।”
মৎস্যখাতে সংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদদারি শুধু বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে না, বরং সাধারণ মানুষের ওপরও অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে। পাথরঘাটায় পরিচালিত এ অভিযান ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করছেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন