রাজশাহীতে তুলনামূলকভাবে আলুর চেয়ে কম খরচে গম চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে গমের আবাদ ভালো হয়েছে। কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত ফলন পেয়েছেন। এতে গম চাষে লাভবান হচ্ছেন তারা। গম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন চাষিরা। রাজশাহী অঞ্চলে আগের চেয়ে প্রতি মৌসুমেই গম চাষ বাড়ছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছরও বেশি জমিতে গম চাষ করা হয়েছে। আলুতে লোকসান খেয়ে রাজশাহী জেলার কৃষকরা এখন গম চাষে মনোযোগী হচ্ছেন। রাজশাহী অঞ্চলে প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার ম্যাট্রিক টন গম উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।
কৃষকরা জানান, গম চাষে প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১২ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। একই সঙ্গে বাজারে দামও তুলনামূলকভাবে অনেক ভালো রয়েছে। এবারও ভালো দাম পাবেন বলে আশা করছেন তারা। অনেক কৃষক আমন ধান কাটার পর আলু বা সরিষা রোপণ না করে গম চাষ করেছেন। অল্প খরচে গম চাষে ভালো লাভবান হওয়া যায়। এখন গম কেটে নিচ্ছেন চাষিরা।
গম গবেষণা কেন্দ্রের সম্প্রতি প্রকাশিত জাতগুলোর মধ্যে প্রদীপ, বিজয়, শতাব্দী এবং বারি গম-২৬ পাতার ঝলসানো ও পাতার মরিচা রোগ প্রতিরোধী এবং উচ্চ ফলনশীল। সর্বশেষ জাত বারি গম-৩৩ ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী, দস্তা সমৃদ্ধ, বড় দানাদার এবং উচ্চ ফলনশীল। কৃষকদের এসব জাতের গম চাষে উৎসাহিত করছে কৃষি বিভাগ।
রবি মৌসুমে রাজশাহী বিভাগে ১ লাখ ২৫ হাজার হ্যাক্টর জমিতে গম চাষ হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলন হয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে গমের চাষ বাড়ছে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় এতে লাভ বেশি হয়। পানিও কম প্রয়োজন হয়। তাই গম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন চাষিরা। চাষিরা বারি-৩০, বারি-৩২ ও বারি-৩৩-এর মতো উন্নত জাতের গম চাষ করছেন। এগুলো উচ্চ ফলন দিচ্ছে।
পবার খড়খড়ি এলাকার কৃষক আনোয়ার হোসেন জানান, গমের জন্য তুলনামূলকভাবে কম সেচ এবং শ্রমের প্রয়োজন হয়, যা একে লাভজনক ফসল করে তোলে। জলবায়ু সহনশীল জাত প্রবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কৃষক গম চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
গোদাগাড়ী উপজেলার ভাটুপাড়া গ্রামের কৃষক ইসমাইল হোসেন ১০০ বিঘা জমিতে উন্নত জাতের গম চাষ করেছেন। তিনি জানান, প্রতি বিঘা গম চাষে খরচ সাড়ে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। বীজ বপন থেকে ফসল তোলা পর্যন্ত মাত্র দুইবার সেচের প্রয়োজন হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১২ মণ ফলন পাওয়া যাচ্ছে।
তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহমেদ বলেন, ‘বরেন্দ্র অঞ্চলে বিশেষ করে তানোরে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ধীরে ধীরে হ্রাস পাওয়ায় কৃষকদের সীমিত সেচ ব্যবস্থায় গম চাষের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গম চাষ সম্প্রসারণে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন প্রণোদনা, প্রদর্শনী এবং বীজ সহায়তা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মধ্যে উন্নত গমের বীজ বিতরণ করা হয়েছে।’
রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান বলেন, ‘উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য মাঠ পর্যায়ের সকল কর্মকর্তা ও কর্মীরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমি গম চাষের আওতায় আনা হচ্ছে। রাজশাহীতে আঞ্চলিক গম গবেষণা কেন্দ্রও রয়েছে। তারাও সার্বিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।’
আঞ্চলিক গম ও ভুট্টা গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জাহেরুল ইসলাম বলেন, ‘বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকরা গম চাষের প্রতি আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছেন, কারণ এই ফসলের জন্য তুলনামূলকভাবে কম পানির প্রয়োজন হয়। গবেষণা কেন্দ্রটি এখন পর্যন্ত ২৪টি গমের জাত এবং বাণিজ্যিক চাষের জন্য বেশ কিছু সময়োপযোগী প্রযুক্তি প্রকাশ করেছে।’



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন