× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশিত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, ০৭:২২ পিএম

চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সৌদিতে মিসাইলের আঘাতে নিহত মামুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশিত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, ০৭:২২ পিএম

প্রবাসী আবদুল্লাহ আল মামুনের দাফন সম্পন্ন। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

প্রবাসী আবদুল্লাহ আল মামুনের দাফন সম্পন্ন। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

সৌদি আরবে মিসাইল হামলায় নিহত ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের প্রবাসী আবদুল্লাহ আল মামুনের (৩৫) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) আছরের নামাজের পর তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাকে পারিবারিক কবরস্থানে শায়িত করা হয়।

এরআগে, দুপুর ১টার দিকে তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি নিয়ে আসা হয়। এ সময় স্বজন ও প্রতিবেশিদের জানাজা ও দাফনের জন্য কাজ করতে দেখা গেছে। কেউ কবর খোঁড়ছেন আবার কেউ মরদেহ গোসল করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পারিবারিক কবরস্থানে কবর খোঁড়া হয়েছে এবং স্থানীয় মসজিদ থেকে খাটিয়াও আনা হয়েছে।

এদিন সকাল থেকে মামুনকে শেষবার দেখতে বাড়িতে ভিড় জমান স্বজন ও প্রতিবেশীরা। মরদেহ দেখে তারা আক্ষেপ করে বলেন, বিদেশিদের যুদ্ধের বলি হলেন মামুন। বিদেশ গেলেন পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরাতে, কিন্তু ফিরলেন লাশ হয়ে।

তারও আগে, সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্সের এসভি-৮০৬ ফ্লাইটে মরদেহটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে নিহত মামুনের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে মরদেহ গ্রহণ করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।

প্রবাসী আবদুল্লাহ আল মামুনের পরিবার। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

মরদেহ হস্তান্তরের সময় মন্ত্রী নিহত কর্মীর পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সকল সহায়তার আশ্বাসও দেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি দাফনের জন্য তখন পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

সুত্র জানায়, গত ৮ মার্চ (রোববার) ইফতারের আগ মুহূর্তে সৌদি আরবের আল খারিজ শহরে আল তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির একটি শ্রমিক ক্যাম্পে মিসাইল বিস্ফোরণ ঘটে। এতে মামুন মিয়া গুরুতর আহত হন। পরে তাকে আল খারিজ শহরের ডাক্তার সোলাইমান আল হাবিব হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। 

নিহত আবদুল্লাহ আল মামুন ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ভরভরা গ্রামের বাসিন্দা শহীদ সওদাগর ছেলে।

পরিবারের সদস্যরা জানায়, জীবিকার সন্ধানে আট বছর আগে সৌদি আরব যান আল মামুন। সর্বশেষ ৫ বছর আগে তিনি দেশে এসেছিলেন। তিনি এক ছেলে সন্তানের জনক।

নিহত আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্ত্রীর নাম সাদিয়া ইসলাম শারমীন তিনি। তিনি মাস্টার'স পাশ। এলাকাবাসির দাবি, এই পরিবারের হাল এখন ধরতে পারেন মামুনের স্ত্রী। কারণ তার স্ত্রী শিক্ষিত। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মামুনের স্ত্রীকে যেন সরকারের পক্ষ থেকে একটা সরকারি চাকরির ব্যবস্থার জন্য দাবি জানানো হয়েছে।

প্রবাসী আবদুল্লাহ আল মামুনের মরদেহ দেখতে স্থানীয় ও আত্মীয় স্বজনদের ভিড়। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

নিহতের স্ত্রী সাদিয়া ইসলাম শারমীন বলেন, স্বামী হারিয়েছি, বিধবা হয়েছি। আমার সন্তান এতিম হয়েছে। এখন আমার সন্তানকে কিভাবে মানুষ করব- বলে অঝোরে কান্না শুরু করেন শারমীন। তিনি বলের, এই পরিবারের হাল আমাকেই ধরতে হবে। সরকার যদি একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়, তাহলে আমাদের জন্য ভাল হতো।

নিহত মামুনের মা শাহিদা বেগম ছেলেকে হারিয়ে ক্ষণে ক্ষণে জ্ঞান হারাচ্ছেন। জ্ঞান ফিরতে আবারও বলছেন আমার ছেলেকে তোমরা আইনা দেও। আমার ছেলে দেশে নতুর বাড়ি করবে বলেছিলেন। এখন কে বাড়ি করব, আমার ছেলেতো কবরের বাড়িতে চলে গেল।

নিহত আবদুল্লাহ আল মামুনের বাবা শহীদ সওদাগর বলেন, আমার ছেলে দীর্ঘ দিন যাবত সৌদি আরবে থাকেন। ঈদের পরে বাড়িতে এসে নতুন বাড়ি করার কথা ছিল। কিন্তু আমার ছেলের বাড়ি করা হলো না। আমার ছেলে ফিরল লাশ হয়ে। 

নিহতের চাচা গুলজার সওদাগর বলেন, আমার ভাতিজা পরিবারের সচ্ছলতা ফিরাতে ১৫ বছর আগে সৌদি আরবে যান। গত ৫ বছর আগে দেশে আসছিল। ঈদের পর আবার দেশে আসার কথা ছিল। দেশে এসে বাড়ি করার কথা ছিল। সরকারকে ধন্যবাদ জানাই, ভাতিজার মরদেহটি দ্রুত সময়ে নিয়ে আসার জন্য এবং পরিবারের পাশে যেন সরকার থাকে।

এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এন. এম. আবদুল্লাহ-আল-মামুনের নাম্বারে কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে, ময়মনসিংহ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মিছাইলের আঘাতে সৌদিতে প্রবাসীর মৃত্যুর বিষয়টি শুনেই তিনি ইন্না-লিল্লাহি ওয়া-ইন্নাইহি রাজিউন পড়েন। 

গত ৮ মার্চের ঘটনা আজ আপনি আমাকে জানাচ্ছেন, আগে কেন জানাননি। পরে এই সংবাদকর্মী বলেন, আমাকে বলার সুযোগ দিন, পরে তিনি কথা শুনে বলেন, বিষয়টি স্থানীয় ইউএনও দেখার কথা।

দুপুরে প্রবাসী আবদুল্লাহ আল মামুনের মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌঁছে। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ইউএনও তো ফোন রিসিভ করছেন না, এমন কথার পর রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান বলেন, আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। তার মানে জেলা প্রশাসন এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলতেই রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান লাইন কেটে দেন।

তবে, স্থানীয় একটি সুত্র বলছে, গফরগাঁও সহকারি কমিশনার ভুমি নিহত আব্দুল্লাহ আল মামুনের গিয়েছিলেন।

গফরগাঁও থানার পুলিশের একটি দলকে নিহত মামুনের বাড়িতে দেখা গেছে। তবে, এ বিষয়ে জানতে গফরগাঁও থানার ওসি আতিকুর রহমানের নাম্বারে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Link copied!