কুষ্টিয়ার মিরপুরে ছত্রগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের পিয়ন মো. হামিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে হামিদুলের নাম উল্লেখ করে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর ২ টা ৫৫ মিনিটে রূপালী বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিরপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম।
এর আগে, বৃহস্পতিবার সকালে ওই ছাত্রী বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে যায়। সন্ধ্যা হয়ে গেলেও সে বাড়িতে ফিরে আসেনা।
পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর রাতে পরিবারের সদস্যরা বিদ্যালয়ের যান। এসময় বিদ্যালয়ের পিয়ন হামিদুলের কাছে মেয়েটির খোঁজ জানতে চাইলে তিনি বিদ্যালয়ে কেউ নেই বলে জানান।
ওই পিয়ন চাবি দিতেও অস্বীকৃতি জানান। এসময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পিয়নের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে বিষয়টি স্থানীয়দের সন্দেহ হলে সেখানে যান।
এরপরেও পিয়ন চাবি দিতে রাজি না হওয়ায় স্থানীয়দের সন্দেহ তীব্র হয়। পিয়নের সঙ্গে হাতাহাতি করে চাবি নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন তারা। সেখান থেকে ওই ছাত্রীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
পরে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বর্তমানে ওই ছাত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. হোসেন ইমামকে একাধিকবার ফোন দিলেও সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে জানা গেছে, ওই ছাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ধর্ষনের আলামত পাওয়া গেছে। তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছে এবং হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে তার চিকিৎসা চলমান রয়েছে।
মিরপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের পিয়ন হামিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। যাহার মামলা নং ৬। গ্রেপ্তারকৃতকে পিয়ন হামিদুলকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন