× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

নওগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম

নওগাঁয় চাঁদা না পেয়ে বাড়িতে ককটেল হামলার অভিযোগ

নওগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম

পুলিশের কাছে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

পুলিশের কাছে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

নওগাঁয় চাহিদামতো চাঁদার টাকা না পেয়ে বসতবাড়িতে ককটেল হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী মোজাহারুল ইসলাম। তিনি আরজি নওগাঁ আনন্দনগর এলাকার বাসিন্দা এবং সরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক।

এ ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে থানায় এজাহার দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী। অভিযুক্তরা হলেন— আনন্দনগর এলাকার মঞ্জুরুল আবছারের ছেলে মেহরাব হোসেন আদিত্ত (১৮), তার স্ত্রী জুড়াইয়া আফরিন ডলি (৩৮) এবং আরজি নওগাঁ লাটাপাড়া এলাকার আজিজার রহমানের ছেলে আব্দুল মান্নান ওরফে মান্না (৪০)।

থানার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মোজাহারুল ও তার স্ত্রী সরকারি চাকরিজীবী হওয়ায় এলাকার কয়েকজন দুষ্কৃতকারী বিভিন্ন সময় অজুহাত দেখিয়ে তাদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। তাদের দাবিমতো কয়েকবার চাঁদাও দেওয়া হয়। গত ১২ মার্চ বিকেলে আবারও ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। তবে এ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকে। এমনকি চাঁদা না দিলে বাড়িতে ককটেল হামলা ও তার ছোট মেয়েকে অপহরণের হুমকিও দেওয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ মার্চ রাত সাড়ে ৯টার দিকে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর বাড়িতে এসে পুনরায় চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বাড়িতে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।

এছাড়া এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। কেউ প্রতিবাদ করলে মারধর, এমনকি খুন-জখমের হুমকিও দেওয়া হয়। এ বিষয়ে এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা হোসেন আলী বাদশা, সকিনা, সুমি, রোজী ও পরিনা বিবি অভিযোগ করে বলেন, ডলি ও তার সহযোগীরা এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেছে। তারা ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করে এবং সামান্য প্রতিবাদেও হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, ডলি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে এবং তার স্বামী পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়।

তারা আরও বলেন, ২৬ মার্চ রাতে ডলির ছেলে আদিত্য ও মান্না মোজাহারুলের বাড়িতে ককটেল নিক্ষেপ করে। পরে জানা যায়, চাঁদার টাকা না দেওয়ায় এ হামলা চালানো হয়।

ভুক্তভোগীর স্ত্রী রুবিয়া খাতুন বলেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা নিয়েছে। টাকা না দিলে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। একপর্যায়ে তার মেয়ের মোবাইল চুরি করা হয়, যা পরে পুলিশের মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়। এরপর থেকে তাদের ওপর নির্যাতন আরও বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘২৬ মার্চ রাতে আমাদের বাড়িতে ককটেল হামলা করা হয়। বর্তমানে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রশাসনের কাছে আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই।’

এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হামিদ ও ভানা প্রামাণিক জানান, প্রায় চার বছর আগে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাদের ওপর হামলা করা হয় এবং উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়।

মামলার বাদী মোজাহারুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমার কাছে চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। সর্বশেষ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা না দেওয়ায় আমাকে ও আমার পরিবারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি আমার বাড়িতে ককটেল হামলা চালানো হয়। আমি থানায় অভিযোগ করেছি, কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তদের মধ্যে একজনের স্বামী পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে মামলাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

অভিযুক্ত মেহরাব হোসেন আদিত্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পারিবারিক বিরোধ থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে, চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটেনি। ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়টি নিয়েও তিনি অস্পষ্ট বক্তব্য দেন।

অন্য অভিযুক্ত আব্দুল মান্নান ওরফে মান্না বলেন, তিনি মোজাহারুলকে চেনেন না এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা।

এ বিষয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমি সম্প্রতি এখানে যোগদান করেছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Link copied!