ময়মনসিংহের তারাকান্দায় বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহর সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, নববর্ষ উপলক্ষে উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনার আয়োজন করা হয়েছিল। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ এবং বিএনপির নেতা মোতাহার হোসেন তালুকদারের।
অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং এক পর্যায়ে সংসদ সদস্যের সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ দাবি করেন, তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
তার অভিযোগ, প্রতিপক্ষের ইশারায় তার সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় তার ভাতিজাসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তানবীর আহম্মেদ বলেন, অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। তবে দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, দুই পক্ষের মধ্যে স্বল্প সময়ের জন্য ধাক্কাধাক্কি হয়েছিল। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং পরে অনুষ্ঠানও শুরু করা হয়। উদ্বোধন শেষে সংসদ সদস্য সেখান থেকে চলে যান।
উল্লেখ্য, ময়মনসিংহ-২ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে জয়ী হন মুহাম্মদুল্লাহ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বিকেলে ১১-দলীয় জোটের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি তারাকান্দা দক্ষিণ বাজার থেকে শুরু হয়ে উপজেলা পরিষদে গিয়ে শেষ হয়। পরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংসদ সদস্য ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি পরিকল্পিত হামলা। তিনি জানান, জোটের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সংসদ সদস্য আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও রমজান মাসে আয়োজিত একটি কর্মসূচিতে তার সমর্থকদের ওপর হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছিল।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোতাহার হোসেন তালুকদার। তার দাবি, ঘটনাটি ছিল সামান্য বাকবিতণ্ডা। তিনি নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষ ঘটেনি।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন