× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

সিলেট ব্যুরো

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম

ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হচ্ছে : শিক্ষামন্ত্রী

সিলেট ব্যুরো

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

দেশের সকল ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ২০২৬ উপলক্ষে সিলেট বিভাগের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশে পরিচালিত ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি সুসংগঠিত নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষাব্যবস্থার কোনো ধারাই সরকারি নীতিমালার বাইরে থাকতে পারে না। এ লক্ষ্যে শিগগিরই একটি কার্যকর রেগুলেটরি বোর্ড গঠন করা হবে। দেশে ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা থাকা স্বাভাবিক। তবে তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধি-বিধানের বাইরে পরিচালিত হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ খাতকে জবাবদিহির আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইতোমধ্যে একাধিক দফায় বৈঠক করা হয়েছে।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘অনেক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে উচ্চ বেতনে শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের ফি আদায় করা হলেও মান নিয়ন্ত্রণ, কারিকুলামের সামঞ্জস্য এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শিক্ষা যদি কেবল বিত্তবানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে তাহলে তা জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য সৃষ্টি করবে।’

শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যা নিরসনে সরকার ধাপে ধাপে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়ন নানা জটিলতায় আটকে ছিল। খুব শিগগিরই শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম চালু করা হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষাখাতে জিডিপি ৫ শতাংশ বাড়ানো হবে। দেশের প্রতিটি উপজেলায় মাল্টিপারপাস পরীক্ষা কেন্দ্র নির্মাণের চিন্তা করছে সরকার। দেশের শিক্ষা খাত উন্নয়নের জন্য যা যা করা দরকার সরকার তা করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিলেট সবসময় প্রথম হয়। তবে শুধু ডলার আর পাউন্ডে না, পড়ালেখায়ও প্রথম হতে হবে। পাবলিক পরীক্ষায় সিলেটের ফলাফল লন্ডনের ওয়েদারের মতো ওঠানামা করে।’

এহছানুল হক মিলন বলেন, সরকার চায় দেশের প্রতিটি শিশু মানসম্মত শিক্ষা পাক—সে ইংলিশ মিডিয়াম, বাংলা মাধ্যম বা মাদ্রাসা যেখানেই পড়ুক না কেন। এজন্য একটি সমন্বিত নীতিমালার মাধ্যমে সব ধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অভিন্ন কাঠামোর আওতায় আনা হবে।

তিনি জানান, শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে কারিকুলাম সংস্কার, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা বিস্তারে সরকার কাজ করছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

ফেসবুকে সমালোচনা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ম্যানেজমেন্ট কমিটি নিয়ে আমাকে তুলোধোনা করা হচ্ছে ফেসবুকে। ভর্তি প্রক্রিয়ায় লটারি বাতিল করার পর আমাকে নিয়ে কত ট্রল হয়েছে। আজকাল আমার কিছু পেলেই ফেসবুকে আলোচনা-সমালোচনা হয়। সেই নির্বাচনের আগে, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় আমি আমার এলাকায় গিয়ে বাচ্চাদের বলেছি, তোমাদের জায়মাকে প্রধানমন্ত্রী বানাতে হবে। কারণ পুতুলকে যদি প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে দেয়! তাই আমি আমার এলাকায় গিয়ে রাজনৈতিকভাবে এই কথা বলছি। তাও নির্বাচনের আগে। এখন এটা নিয়ে আমাকে ট্রল করা হচ্ছে।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন এই স্বপ্ন তো আমরা দেখতেই পারি। আমরা স্বপ্ন দেখেছিলাম তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন, সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আল্লাহ কবুল করলে সেও (জায়মা রহমান) প্রধানমন্ত্রী হবে, আমি হয়তো বেঁচে থাকলে দেখে যেতে পারব।’

মতবিনিময় সভায় তিনি উল্লেখ করেন, সিলেট প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় এখানে অর্থনৈতিক সক্ষমতা তুলনামূলক বেশি। কিন্তু সেই আর্থিক শক্তি শিক্ষার মানোন্নয়নে পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ফলে একই অঞ্চলের ভেতরেই সুযোগের অসম বণ্টন দেখা যাচ্ছে।

সভায় সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও মান নিশ্চিত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সরকার একা সব করতে পারবে না—শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠান পরিচালকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফ হক চৌধুরী, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এ ছাড়াও সিলেটের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলার শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। তারা সিলেটের শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সংকট মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

Link copied!