× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ১০:২২ পিএম

দৌলতপুরে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ১০:২২ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ‘পীর’ শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমানকে হত্যার ঘটনায় জামায়াত নেতাকে প্রধান আসামি করে মামলা করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতপুর উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে দৌলতপুর থানার সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. বেলাল উদ্দিন বলেন, ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে শুরু থেকেই তারা প্রশাসনের কাছে ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের আহ্বান জানিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে জামায়াত নেতা খাজা আহম্মেদকে মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে। এলাকায় খাজা আহম্মেদের জনপ্রিয়তা এবং সম্ভাব্য ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচনে অংশগ্রহণে তার আকাশচুম্বী সমর্থনে ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষ একটি মহল তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী চক্র রাতের আঁধারে সাধারণ মানুষের বাড়িতে গিয়ে মামলা দেখিয়ে ভয় দেখিয়ে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করছে। এদিকে, মামলার বিষয়টি সামনে আসার পর জামায়াতের পক্ষ থেকে এর আগে একটি লিখিত বিবৃতি প্রদান করা হয় এবং পরবর্তীতে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক এনামুল হক বলেন, দরবারে হামলা ও হত্যার ঘটনাকে তারা কোনোভাবেই সমর্থন করেন না। তিনি জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচারের দাবি করে বলেন, ঘটনার কয়েকদিন পর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিরোধী মত দমনের লক্ষ্যে জামায়াত নেতাকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যদিও ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি অবিলম্বে মামলাটি প্রত্যাহার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

উল্লেখ্য, হত্যাকাণ্ডের তিনদিন পর সোমবার রাত ১১টায় নিহত পীরের বড় ভাই ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৩৬)। মামলায় কুষ্টিয়া জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য খাজা আহম্মেদ (৩৬)-কে হুকুমের আসামি করা হয়।

এছাড়া মামলায় আরও তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন—বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের দৌলতপুর উপজেলা শাখার সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ (৪৮), জামায়াত সমর্থক রাজিব মিস্ত্রি (৩২) এবং একটি স্থানীয় মাদ্রাসার শিক্ষক সিহাব (সাফি) (৪৫)। সিহাব (সাফি) বিএনপি সমর্থক বলে জানা গেছে। এছাড়াও মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তবে পীর শামীম হত্যার এ ঘটনায় ৬ দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান।

এর আগে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ এনে শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে বিভিন্ন বয়সী শতাধিক উচ্ছৃঙ্খল জনতা পীর শামীম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে তার আস্তানা বা দরবারে হামলা চালায়। এ সময় রাজিবসহ হামলাকারী যুবকরা পীর শামীমকে তার কক্ষ থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরে তাকে দোতলা থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়।

এরপর হামলাকারীরা সংগবদ্ধভাবে আস্তানায় আগুন জ্বালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। নির্মম এ ঘটনায় দেশ-বিদেশে চাঞ্চল্য ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

Link copied!