কক্সবাজারে একদিনে পৃথক ঘটনায় ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা ও বজ্রপাতে এসব ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টের স্টাফ কোয়ার্টার থেকে সাইফুল ইসলাম সুমন (৪২) নামের এক কর্মীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি কলাতলীর ‘শালিক রেস্টুরেন্ট’ এর স্টোর ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও নিহতের সহকর্মী সূত্রে জানা গেছে, সুমন চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত প্রায় ১২টার দিকে কলাতলীর স্টাফ কোয়ার্টারে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে সহকর্মীরা দ্রুত কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঈদগাঁওতে নুরুল হক নামে ৮০ বছরের এক বৃদ্ধ গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশ বাড়ির ভেতর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। মঙ্গলবার ভোরে ঈদগাঁও জাগিরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটেছে।
চকরিয়াতে যাত্রীবাহী বাসের সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মিজানুর রহমান নামে একজন নিহত হন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে মহাসড়কের হারবাং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ সময় আরও একজন আহত হয়।
উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৩-তে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর একটি গাড়ির ধাক্কায় আবু ওয়াইদা (৪) নামে এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ক্যাম্পের ই/০১ ব্লকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আবু ওয়াইদা ক্যাম্প-১৩-এর জি/০৪ ব্লকের বাসিন্দা। তার বাবা মৌলবী আব্দুল্লাহ ও মা হামিদা। পুলিশ জানায়, আইওএম পরিচালিত একটি গাড়ি (চট্ট মেট্রো-চ-১১-৮৭৬৪) ক্যাম্পের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় শিশুটিকে ধাক্কা দিলে সে গুরুতর আহত হয় এবং ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মোক্তার হোসেন (৪৮) নামে একজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদর ইউনিয়নের রাজার ছড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শিলখালী শামলাপুর এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, বাহারছড়া থেকে টেকনাফগামী মোটরসাইকেলটি হঠাৎ এক পথচারী সামনে চলে আসায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। ঘটনাস্থলেই মোক্তার হোসেন মারা যান। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হন।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী ইউনিয়নের চৌফলদণ্ডী ব্রিজ এলাকায় বজ্রপাতে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
চৌফলদণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনজুর আলম জানান, লবণের মাঠ থেকে ব্রিজের ওপর ওঠার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। মনজুর আলম বলেন, নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে এবং নিহতদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি সড়কে সতর্কতা বৃদ্ধি ও দুর্যোগকালীন সময়ে সচেতন থাকার জন্য সকলকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে, একদিনে এমন একাধিক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন