ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বিয়ের ১০ বছর পর একসঙ্গে সাত সন্তানের জন্ম, বাঁচেনি কেউ

নড়াইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ৮, ২০২৬, ০৮:০১ এএম

নড়াইলের নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের কালুখালী গ্রামে এক গৃহবধূ একসঙ্গে সাত সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তবে অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেওয়া নবজাতকদের কাউকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইজিবাইকচালক মহসিন মোল্যা ও তার স্ত্রী সালমা বেগমের বিয়ের ১০ বছর পর সন্তান জন্ম নেয়। আল্ট্রাসোনোগ্রাফিতে ছয় সন্তানের অস্তিত্ব ধরা পড়লেও প্রসবের সময় সাতটি সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। এর মধ্যে চারটি ছেলে ও তিনটি মেয়ে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত মঙ্গলবার রাতে যশোরের একটি হাসপাতালে প্রথমে দুটি সন্তান জন্ম নেয়। পরে বুধবার রাতে আরও পাঁচটি সন্তান প্রসব করেন সালমা। তবে জন্মের পরপরই নবজাতকদের মৃত্যু হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ছয় নবজাতককে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। আরেক নবজাতককে যশোরের একটি কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

নবজাতকদের দাদি মঞ্জুরা খাতুন বলেন, সোমবার রাতে প্রসবব্যথা উঠলে সালমাকে যশোরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্তানগুলোর জন্ম হয়।

দাদা আব্দুল লতিফ মোল্যা বলেন, বিয়ের ১০ বছর পর সন্তান মুখ দেখার অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু সাতটি সন্তান জন্ম নিয়েও কাউকে বাঁচানো গেল না।

স্থানীয় বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু সেলিম বলেন, একসঙ্গে সাত সন্তানের জন্মের খবর এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছিল। তবে সন্তানগুলোর মৃত্যুতে সবাই মর্মাহত হয়েছেন।

যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইলা মণ্ডল বলেন, সন্তানগুলো নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই জন্ম নিয়েছে। প্রায় পাঁচ মাসের মাথায় জন্ম নেওয়া প্রতিটি শিশুর ওজন ছিল প্রায় ২০০ গ্রাম। জন্মের সময় সবার হার্টবিট থাকলেও শেষ পর্যন্ত কাউকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও জানান, প্রসূতি সালমা বেগম বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন।