চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমকে শেষ পর্যন্ত দলে ভেড়াতে পারেনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তাকে চট্টগ্রাম নগর শাখার আহ্বায়ক করা এবং পরবর্তীতে মেয়র পদে মনোনয়ন দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল দলটি।
এ প্রস্তাব নিয়ে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ সম্প্রতি মনজুর আলমের বাসভবনেও যান। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি দলে যোগ দেননি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যোগদান অনুষ্ঠানের আগে এনসিপির পক্ষ থেকে মনজুর আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে তিনি নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন এবং বাসা থেকেও সরে যান। পরে বিভিন্ন সংস্থা ও পুলিশ তার অবস্থান জানার চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এনসিপির যোগদান অনুষ্ঠান শেষ পর্যন্ত মনজুর আলম ছাড়াই সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে বিএনপি, জামায়াত বা অন্যান্য দল থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো নেতা যোগ দেননি বলেও জানা যায়। ফলে অনুষ্ঠানটি তুলনামূলকভাবে সাদামাটা হয়ে পড়ে।
অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
মনজুর আলমের পরিবারের এক সদস্য জানান, রাজনৈতিক চাপ ও বারবার যোগাযোগের কারণে তিনি বিরক্ত হয়ে ফোন বন্ধ করে রাখেন। এমনকি বাসা থেকেও সরে যান।
তাদের দাবি, ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাউকে কোনো দলে নেওয়া সম্ভব নয়। একটি পক্ষ তাকে এনসিপিতে জোর করে যুক্ত করতে চেয়েছিল।
এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর সমন্বয়কারী রিদুয়ান হৃদয় বলেন, মনজুর আলমের যোগদান নিয়ে তাদের কাছে কোনো নিশ্চিত তথ্য ছিল না। তিনি যোগ না দিলেও এতে দল হতাশ নয়।
সূত্র বলছে, এনসিপি নেতারা মনজুর আলমকে নগর শাখার নেতৃত্ব এবং মেয়র প্রার্থিতা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে তিনি এতে রাজি হননি।
মনজুর আলম চট্টগ্রামের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত নাম। তিনি একসময় চসিকের মেয়র ছিলেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরে কাজ করেছেন। পরবর্তী সময়ে তিনি বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রমে পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকলেও সরাসরি কোনো দলে স্থায়ীভাবে অবস্থান নেননি।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন