× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মে ২১, ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম

উদ্বোধনের আগেই ভেঙে যাচ্ছে কোটি টাকার সেতুর সংযোগ সড়ক

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মে ২১, ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়েছে ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতুর সংযোগ সড়ক। সেতু নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, ব্যাপক অনিয়ম এবং নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের শিবপুর-বলুহা সড়কে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের এই গার্ডার সেতু নির্মাণের কাজ পায় ‘মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ’। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে কার্যাদেশ পাওয়ার পর ওই বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও কয়েক দফা সময় বাড়িয়েও তা এখনও সম্পন্ন করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সম্প্রতি সামান্য বৃষ্টিতেই সংযোগ সড়কের ড্রাম শিটের গাইডওয়াল সরে গিয়ে রাস্তার দুই পাশের মাটি ধসে পড়েছে এবং ভেঙে গেছে ইটের সলিং ও নিরাপত্তা বেষ্টনী। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এ ছাড়া কাজ করার সময় কার্যাদেশের বিভিন্ন শর্তও মানা হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্প এলাকায় কাজের বিবরণসংবলিত সাইনবোর্ড স্থাপনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও সেখানে কোনো সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। ফলে প্রকল্পের ব্যয়, সময়সীমা ও কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষ অন্ধকারে রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শুরুর আগে সাইট অফিস, লেবার শেড, ইটের খোয়া ভেজানোর পানির চৌবাচ্চা এবং শ্রমিকদের সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার কথা থাকলেও বাস্তবে কিছুই করা হয়নি। অপরিকল্পিতভাবে কাজ পরিচালনা করায় নির্মাণের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বলুহা গ্রামের বাসিন্দা মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘কাজের শুরু থেকেই আমরা অনিয়মের প্রতিবাদ করেছিলাম। এখন সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের শেষ থাকবে না।’

শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা অঞ্জনা রানী বলেন, ‘এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। বর্ষায় সড়কটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে।’

গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জালাল আহমেদ আকন্দ বলেন, ‘এখানে কাজের কোনো সাইনবোর্ড নেই। ড্রাম শিট দিয়ে করা প্যালাসাইটিংয়ের কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের। এ সড়ক দিয়ে কয়েকটি গ্রামের মানুষ ও শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে।’ তিনি কাজটির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বর্ষার কারণে কাজের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে সেতুর পাশের কিছু মাটি সরে গেছে। বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। প্রয়োজনীয় মাটি না পাওয়ায় কাজটি সম্পন্ন করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা হবে।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাল উদ্দিন বলেন, ‘সেতুটি আমি পরিদর্শন করেছি। ঠিকাদার এখনো চূড়ান্ত বিল পাননি। কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না হলে তাকে বিল দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে কার্যাদেশ বাতিল করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, ‘সেতু নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এখনও চূড়ান্ত বিল দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেতুর কাজ সম্পন্ন না হলে যাতে ঠিকাদার বিল উত্তোলন করতে না পারে।’

Link copied!